খুলনা অফিস
খুলনা মহানগর তাঁতিদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ হুমায়ুন কবির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে। রোববার রাতে নিহতের ছেলে সৈয়দ নুর আমিন সৌহার্দ্য বাদী হয়ে আড়ংঘাটা থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় ছাত্রদল নেতা আরাফাতসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই-তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ এজাহারভুক্ত আসামি শেখ সিদ্দিক (৫৩) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আড়ংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হালিমুর রহমান সোমবার সকালে বলেন, এজাহারভুক্ত আসামি সিদ্দিককে রোববার রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়। ছাত্রদলের আরাফাতসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ক্ষেত্রে কারও রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না।
গ্রেপ্তার শেখ সিদ্দিক রায়েরমহল পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত শেখ ইদ্রিস আলী ওরফে ইদিল ফকিরের ছেলে।
এদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, চার-পাঁচজন দুর্বৃত্ত ইজিবাইকে এসে দেশি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হুমায়ুন কবিরের নিজ প্রতিষ্ঠান ‘আল-ক্যান্টিনো’ রেস্তোরাঁয় ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায়। তাদের একজনের মুখ ঢাকা ছিল। হামলায় জড়িত বলে যাদের নাম পাওয়া গেছে, তারা হলেন মইন, আরাফাত, ফায়েক ও বায়েজিদ। তারা রায়েরমহল পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্র আরও জানায়, আরাফাতের দোকান থেকে কেনা ফ্রিজের কিস্তির টাকা সময়মতো পরিশোধ না করায় ঘটনার আগে হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে আরাফাত ও ফায়েকের তর্ক ও হাতাহাতি হয়। এরপরই তারা দেশি অস্ত্র দিয়ে হুমায়ুন কবিরকে আঘাত করেন। তাৎক্ষণিক তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর রায়েরমহল বড় মসজিদ এলাকায় নিজ প্রতিষ্ঠানে দুর্বৃত্তদের হামলায় তিনি খুন হন। ঘটনার সময় তিনি ‘আল-ক্যান্টিনো’ রেস্তোরাঁয় অবস্থান করছিলেন। নিহত হুমায়ুন কবির রায়েরমহল বড় মসজিদ এলাকার সৈয়দ আনোয়ার আলীর ছেলে।
নিহতের ভাতিজা সৈয়দ দিদারুল করিম বিপ্লব দাবি করেন, ছাত্রদল নেতা আরাফাত ও তার সহযোগীরা দেশি অস্ত্র নিয়ে তার ছোট চাচা হুমায়ুন কবিরের ওপর হামলা চালান। তারা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন।