লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নলদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ পাখির ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নলদী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এই হামলা হয়। আহত অবস্থায় তাকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ পাখি অভিযোগ করেন, দুপুরে তিনি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় কয়েক ব্যক্তি পরিষদের সামনে জ্বালানি কাঠ রাখছিলেন। তিনি সরকারি অফিসের বারান্দায় কাঠ রাখার কারণ জানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর দেননি। এর কিছুক্ষণ পর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামানসহ কয়েকজন ব্যক্তি তার কক্ষে প্রবেশ করেন।
তারা ‘মিলাদের কাজে বাধা দিলেন কেন’ বলে তাকে কিল-ঘুসি ও এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। এতে তার চোখ ও মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নলদী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির কামরুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যান সরকারি অফিসের বারান্দায় কাঠ না রেখে পাশে রাখতে বলেছিলেন। এর কিছুক্ষণ পরই কয়েকজন এসে চেয়ারম্যানকে হুমকি-ধমকি দেয় এবং পরবর্তীতে সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান এসে তার ওপর হামলা চালান।
তবে মারধরের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, ‘আমি কেন তাকে মারতে যাব? শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ মাহফিলের খাবার রান্নার জন্য স্থানীয়রা সেখানে জ্বালানি কাঠ জড়ো করছিলেন। চেয়ারম্যান সেই কাঠ রাখতে বাধা দেন। পরে সেখানে উপস্থিত উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করেছেন বলে শুনেছি। আমি এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই।’
নড়াইল সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আহত আবুল কালাম আজাদ পাখির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তিনি বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নলদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ওরফে পাখি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। তবে বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি দল পরিবর্তন করে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। এই দলবদল ও স্থানীয় মিলাদ মাহফিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই হামলার সূত্রপাত বলে ধারণা করছে স্থানীয়রা।