শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে খালের দখল ও মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে দু'জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার সকালে উপজেলার খুঁটিকাটা-কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামের সংক্রান্তির খাল এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে খালটি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ইউপি সদস্য আজহারুল ইসলামের নিয়ন্ত্রণে ছিল। শুক্রবার সকালে জামায়াত-শিবিরের কয়েকজন কর্মী খালে জাল ফেলে মাছ ধরতে গেলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় আজহারুল ইসলামের সমর্থকরা বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরাও এতে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষ চলাকালে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল ইসলাম (৩৩), বিএনপি কর্মী কবির হোসেন (২৬) এবং জামায়াত-শিবিরের কর্মীসহ অন্তত সাতজন আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আহতদের শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পরও উত্তেজনা অব্যাহত থাকে। এ সময় হাসপাতাল চত্বরে জামায়াত-শিবিরের কর্মী আব্দুল্লাহ মামুন সাদকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির কয়েকজন কর্মী তাকে হাসপাতাল থেকে বের করে মারধর করেন।
এ বিষয়ে জামায়াত নেতা শাহিন হোসেন বলেন, খালটির পূর্ববর্তী ইজারার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। নতুন ইজারা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় দরিদ্র মানুষ মাছ ধরতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমি খালটির ফের ইজারা পাওয়ার জন্য আবেদন করেছি এবং সেখানে মাছ চাষ চলমান ছিল। জামায়াত নেতার নেতৃত্বে একদল লোক রড ও শাবল নিয়ে হামলা চালিয়েছে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শাকির হোসেন জানান, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে দু'জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, খালের দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইউপি সদস্য আজহারুল ইসলাম আগে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগে যোগ দিলেও বিএনপির মধ্যেও তার একটি সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।