যশোর, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

চৌগাছার ঝন্টু হত্যার প্রধান আসামিকে ধরে এনেছে র‍্যাব

স্টাফ রিপোর্টার

, যশোর

প্রকাশ : শুক্রবার, ৫ জুন,২০২৬, ১১:২৭ এ এম
আপডেট : শুক্রবার, ৫ জুন,২০২৬, ০২:৩৮ পিএম
চৌগাছার ঝন্টু হত্যার প্রধান আসামিকে ধরে এনেছে র‍্যাব

যশোরের চৌগাছায় সালিশ বৈঠক শেষে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে ঝন্টু মিয়া হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি আবু ওবায়দাকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) গভীর রাতে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি উপজেলার পশ্চিম তিলছড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব-৬ এর যশোর ও ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের একটি যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে।

শুক্রবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব-৬ এর কোম্পানি অধিনায়ক (কমান্ডার) মেজর একেএম ফজলে রাব্বি প্রিন্স এই গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার আবু ওবায়দাকে যশোরে আনা হয়েছে এবং শুক্রবারই তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ মে রাত ৮টার দিকে চৌগাছা উপজেলার দক্ষিণসাগর গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত ঝন্টু মিয়া উপজেলার মাড়ুয়া গাজীপাড়ার শফিয়ার রহমানের ছেলে। ওই হামলায় ঝন্টুর ভাই আশানুর রহমানও গুরুতর আহত হন।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, ঘটনার কিছুদিন আগে ঝন্টুর ১৪ বছর বয়সী মামাতো বোন জুঁইকে দক্ষিণসাগর গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে শান্ত মিয়া অপহরণ করে নিয়ে যায়। এই অপহরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘটনার দিন রাতে দক্ষিণসাগর গ্রামে একটি সালিশ বৈঠক বসে। সালিশে অপহৃত কিশোরীকে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে বৈঠক শেষ হওয়ার পরপরই দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা চরম উত্তেজনায় রূপ নেয়।

এরই জেরে শান্ত মিয়ার পক্ষের আবু ওবায়দাসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে আচমকা ঝন্টু মিয়া ও আশানুর রহমানের ওপর হামলা চালায় এবং তাদের শরীরজুড়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় দুই ভাইকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঝন্টু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে আশানুর রহমানের অবস্থার অবনতি হলে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে চৌগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়, যার প্রধান আসামি করা হয়েছিল আবু ওবায়দাকে। ঘটনার পর থেকেই ওবায়দা পলাতক ছিলেন।

মেজর ফজলে রাব্বি প্রিন্স বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘ অনুসন্ধান চালিয়ে আসামির অবস্থান শনাক্ত করে তাকে আটক করা হয়েছে। ওবায়দা এলাকায় একজন পেশাদার অপরাধী হিসেবে পরিচিত এবং তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন, হত্যাচেষ্টা, চুরি ও মাদকসহ একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তার আসামিকে চৌগাছা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে ঝন্টু হত্যা মামলার প্রধান আসামি অবশেষে ধরা পড়ায় নিহতের পরিবারসহ স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)