যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

জাতীয় দলের ফুটবলারের বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগ, নির্দোষ দাবি রহমতের

মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি

প্রকাশ : সোমবার, ৮ জুন,২০২৬, ০৪:২৩ পিএম
আপডেট : সোমবার, ৮ জুন,২০২৬, ০৬:২৬ পিএম
জাতীয় দলের ফুটবলারের বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগ, নির্দোষ দাবি রহমতের

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় রহমত মিয়ার বিরুদ্ধে তার প্রথম স্ত্রী, শাশুড়িসহ বেশ কয়েকজনকে ঘরের ভেতর অবরুদ্ধ করে বেদম মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার জাঙ্গালিয়া গ্রামে রহমত মিয়ার নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তার প্রথম স্ত্রী সাদিয়া ইসলাম (১৯) ও শাশুড়ি আফরোজা বেগম মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা মারধর ও নির্যাতনসহ সব অভিযোগ অস্বীকার করে আজ সোমবার (৮ জুন) সকালে মহম্মদপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জাতীয় দলের এই ডিফেন্ডার ও তার পরিবার।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে রাজশাহী সদর উপজেলার তকিপুর গ্রামের সাদিয়া ইসলামের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় ফুটবলার রহমত মিয়ার। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাদের ঘরে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। সাদিয়া ইসলামের দাবি, সন্তান প্রসবের আগেই রহমত এক ভারতীয় নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং ২০২৫ সালে তাকে না জানিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকেই তার ওপর শুরু হয় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। একপর্যায়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হলে তিনি প্রায় এক বছর ধরে বাবার বাড়িতে থাকতে বাধ্য হন।

সাদিয়া অভিযোগ করেন, গত শুক্রবার বিকেলে কন্যাসন্তানের সোনার চেইন ও পায়ের নূপুর ফেরত দেওয়ার কথা বলে রহমত মিয়া তাকে মহম্মদপুরের মধুমতী সেতুর ওপর দেখা করতে বলেন। সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে রহমত কোল থেকে কন্যাসন্তানকে নিয়ে গাড়িতে ঘুরিয়ে আনার কথা বলে দ্রুত চম্পট দেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে সাদিয়া জানতে পারেন রহমত মেয়েকে নিয়ে নিজের বাড়িতে চলে গেছেন। পরে সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে সাদিয়া তার মা আফরোজা বেগম, এক আত্মীয়া ও স্থানীয় ইউপি সদস্য ইরানি বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রহমতের বাড়িতে যান।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বাড়িতে পৌঁছানোর পরপরই রহমত মিয়া, তার বাবা ও ভাই বাড়ির দুই পাশের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। এরপর শুরু হয় নির্মম নির্যাতন।

সাদিয়া বলেন, ‘রহমত আমাকে লাঠি দিয়ে এবং চুল ধরে মারধর করে দেয়ালে মাথা ঠুঁকে দেয়। গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। আমার মা ও ইউপি সদস্য ইরানি বেগমকেও মারধর করা হয়।’

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় ইউপি সদস্য ইরানি বেগম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘বাড়ির দুই গেটে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। একপর্যায়ে রহমত আমারও গলা চেপে ধরে। আমি গোপনে আমার স্বামীকে ফোন করে জানালে পরে তার সহযোগিতায় পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে।’

মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু আহসান জানান, শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে দুই নারী হাসপাতালে ভর্তি হন। সাদিয়া ইসলামের শারীরিক অবস্থা তুলনামূলক জটিল ও তিনি তীব্র আতঙ্কগ্রস্ত ছিল। তবে বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত।

অভিযোগ অস্বীকার করে রহমতের সংবাদ সম্মেলন

সব অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে ফুটবলার রহমত মিয়া সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কন্যাসন্তানকে জোরপূর্বক নেওয়া হয়নি, বরং তার মা স্বেচ্ছায় মেয়েকে আমার কাছে রেখে গিয়েছিল। মূলত ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট দাবি করছিল স্ত্রী ও তার স্বজনরা। সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় এখন সম্মান নষ্ট করতে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।

তবে তিনি ভারতীয় নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করার কথা স্বীকার করে দাবি করেন, প্রথম স্ত্রী সাদিয়ার সম্মতি নিয়েই তিনি ওই বিয়ে করেছেন।

মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এটি মূলত প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও সন্তানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পারিবারিক বিরোধ। ভুক্তভোগী পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)