কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া কর অঞ্চলে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রার্থীদের হয়ে প্রক্সি দিতে এসে চারজন আটক হয়েছেন। মৌখিক পরীক্ষার সময় জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ায় নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তাদের আটক করে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দিবাগত মধ্যরাতে কুষ্টিয়া পিটিআই রোডের কাস্টম মোড় এলাকায় অবস্থিত কুষ্টিয়া কর অঞ্চলের প্রধান কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার সুটিয়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে খালিদ বিন ওয়ালিদ (২৫), কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রিফায়েতপুর এলাকার হান্নান আলীর ছেলে মুন্না ইসলাম (২৩), তারাগুনিয়া এলাকার ইলিয়াস হোসেনের ছেলে সাগর হোসেন (২৪) এবং বড়গাংদিয়া এলাকার আতিয়ার রহমানের ছেলে নাজমুল হোসেন।
কর অঞ্চল কুষ্টিয়ার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৫ মে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার স্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্য থেকে ৬টি পদে মোট ১২২ জনকে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। গত ৭ মে থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। এরপর ১৯ জুন ‘অফিস সহায়ক’ পদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং মঙ্গলবার (২৩ জুন) কুষ্টিয়া কর অঞ্চলের কার্যালয়ে ছিল ওই পদেরই মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষা।
বিকেলে অফিস সহায়ক পদের মৌখিক পরীক্ষা চলাকালীন এই চার যুবকের সন্দেহজনক আচরণ নজরে এলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। পরে তাদের কাগজপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করতে গিয়ে প্রবেশপত্রের ছবিতে জালিয়াতি এবং প্রকৃত প্রার্থীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তির পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা অর্থের বিনিময়ে প্রক্সি দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলে মঙ্গলবার মধ্যরাতে তাদের পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে মূল চাকরি প্রার্থীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিয়ে দেওয়ার জন্য একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে। কর অঞ্চল কুষ্টিয়া কার্যালয়ে এমন জালিয়াতির অভিযোগে চারজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আজ বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে আটক চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য মূল হোতাদেরও আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।