যশোর, বাংলাদেশ || রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

প্রবাসীর কিশোর অপহরণ-হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

প্রকাশ : শনিবার, ২৭ জুন,২০২৬, ০৯:২১ পিএম
আপডেট : শনিবার, ২৭ জুন,২০২৬, ১০:১১ পিএম
প্রবাসীর কিশোর অপহরণ-হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় প্রবাসীর ১৫ বছর বয়সী ছেলে রাফিজ মিয়াকে অপহরণ করে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি এবং পরে শ্বাসরোধে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় প্রধান আসামি লাল্টু মিয়াকে (৪১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশিও উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান।

এর আগে গত শুক্রবার (২৬ জুন) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নলিয়া গ্রামের জামালপুর বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার জানান, গত ৫ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার চিলাভালকী গ্রামের কিশোর রাফিজ মিয়া একটি ফোনকল পেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। রাত ১১টার দিকে তার দাদি আমেনা খাতুনের মোবাইল ফোনে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসে।

ফোনের ওপার থেকে রাফিজের কান্নার শব্দ শোনানো হয় এবং তাকে ছেড়ে দিতে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, রাফিজের বাবা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকায় পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের উদ্দেশে এই অপহরণের পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী কৌশলে রাফিজকে মোটরসাইকেলে করে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর এলাকার অর্জুন খালের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে তার হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হয় এবং পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে টাকা না পেয়ে ওই রাতেই গলায় রশি পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ অর্জুন খালে ফেলে দিয়ে ও তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের কাছে কয়েক দফা মুক্তিপণের টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা।

ঘটনার আট দিন পর, ১৩ জুন কুতুবপুরের লাল ব্রিজ মাঠ সংলগ্ন অর্জুন খালের পাশের একটি পুকুর থেকে রাফিজের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ।

এর আগে ১০ জুন রাফিজের দাদি আমেনা খাতুন বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের নির্দেশনায় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি) ও আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি যৌথ টিম কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে গত ২৬ জুন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজবাড়ী জেলা থেকে প্রধান পলাতক আসামি লাল্টু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে লাল্টু মিয়া হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে এবং তার দেখানো মতে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে আমরা প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো অপরাধীই আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।’

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)