কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
স্কুলছাত্রী ফারিয়া ইয়াসমিন তৃষার (১৫) মৃত্যুর বিষয়ে প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট আদালতে দাখিল করেছেন কেশবপুর থানার ওসি রোকসোনা খাতুন। এঘটনায় মামলা রেকর্ড হয়েছে। যার নম্বর-২৯/২৬, তারিখ-০১-০৭-২০২৬।
মামলার বিবরণ ও তৃষার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, যশোরের কেশবপুর উপজেলার বাগদহ গ্রামের আলমগীর হোসেনের মেয়ে কেশবপুর পাইলট স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারিয়া ইয়াসমিন তৃষার মরদেহ গত ৩০ জুন সন্ধ্যায় তাদের বাড়ির দ্বিতীয়তলায় তার শোয়ার ঘরের সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।
তিশার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে একই গ্রামের আব্দুল আহাদের ছেলে নিশান (২৪)। তার সাথে দৈহিক মেলামেশার দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও করে তৃষাকে এতদিন ব্লাকমেইল করে আসছিল। ঘটনার দিন নিশান তিশার শোয়ার ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে। এই নিয়ে দু‘জনের মধ্যে কথাকাটাকটির একপর্যায়ে নিশান তিশাকে মারপিটসহ গলাটিপে হত্যা করে তার মরদেহ ওই ঘরের মধ্যে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায়।
এসময় তৃষার গলায় থাকা সোনার চেইন ও একটি আংটি খুলে নিয়ে যায় নিশান। পরে তার পরিবারের সদস্যরা ঘরের মধ্যে তিশার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। লাশ উদ্ধার করে পুলিশ প্রাথমিক সুরতহাল শেষে, ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
একাধিক সূত্র জানায়, পূর্ব শক্রতার জের ধরে ২ মে ২০২৫ তারিখ সকালে স্থানীয় জব্বারের মোড়ে তৃষার বাবা আলমগীর হোসেন কেশবপুরে আসার পথে তার পথ গতিরোধ করে নিশানসহ ১০/১৫ জন সন্ত্রাসী। তার কাছে তারা ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে সন্ত্রাসীরা তার কাছে থাকা নগদ টাকা এবং তার ব্যবহৃত এফজেড মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেয়। যার নম্বর ল-১৩-৬৯৭৭। পরে পুলিশ ওই মোটর সাইকেলটি উদ্ধার করে ১৩ মে ২০২৫ তারিখে আলমগীর হোসেনকে ফেরত দেয়। এ বিষয়ে আলমগীর হোসেন নিশানসহ আটজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
তৃষার বাবা আলমগীর হোসেন বলেন, তার ওপর হামলা, চাঁদাবাজি এবং তৃষার হত্যাকাণ্ড একই সূত্রে গাঁথা। তিনি এ বিষয়ে তদন্ত ও দোষী ব্যাক্তির শাস্তি দাবি করেন।
নিশান পালিয়ে থাকায় এবং তার মোবাইলফোন বন্ধ থাকায় ঘটনা সম্পর্কে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রোকসোনা খাতুন বলেন, তৃষা মৃত্যুর ঘটনায় মামলা রেকর্ড হয়েছে। তার মৃত্যুর ঘটনাটি অস্বাভাবিক।