মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে এক নারীকে অবৈধভাবে ভারতে পাচারের চেষ্টার সময় মানবপাচার চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় চক্রটির কবল থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মহেশপুর থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাঙ্গা পশ্চিমপাড়া গ্রামের খাইরুলের ছেলে মো. ইমন (১৯)।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার উজিয়াল গ্রামের মৃত টগরু মামুদের মেয়ে মোছা. নিতুন জেরা (৪১)। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার বিসিক শিল্পাঞ্চল এলাকায় বসবাস করেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা ভুক্তভোগীকে ভারতে ভালো বেতনের চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণামূলকভাবে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আসে। গত ২০ আগস্ট জীবননগর থেকে তাকে নিয়ে মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পাচারের চেষ্টা করা হয়।
সীমান্ত অতিক্রমে ব্যর্থ হওয়ার পর তাকে বাঘাডাঙ্গা এলাকার ইমনের টিনশেড বসতঘরে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে ওই নারী জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে সাহায্য চান। খবর পেয়ে মহেশপুর থানা পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে মো. ইমনকে গ্রেপ্তার করে।
এ ঘটনায় সাভারের পশ্চিম রাজাশনের জাহিদুল ইসলাম মীর (৪২) এবং মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাঙ্গা গ্রামের শামিনুর (৩৩), আমিনুর রহমান (৩৭), কবির হাজং (৩১), মহসিন (৪৩), মো. হৃদয় মিয়া (২৫), মো. শাহাবুদ্দিন (৩৫), সম্রাট (২৪)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মহেশপুর থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মহেশপুর থানার উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) অপু কুমার বিশ্বাসকে।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পলাতক অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।