পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:
খুলনার পাইকগাছায় কুমারেশ বাওয়ালী টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া, আয়-ব্যয়ের হিসাব লুকিয়ে রাখা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ দিলে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে দেলুটি ইউনিয়নের কালীনগর-দারুণমল্লিক এলাকায় প্রয়াত শিক্ষানুরাগী কুমারেশ বাওয়ালীর নামে তার ছেলে দিবাকর বাওয়ালী প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন।
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের কথা বলে অনেকের কাছ থেকে ছয় থেকে দশ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা নেওয়ার পরও অনেককে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, উল্টো প্রতিবাদ করলে চাকরি খাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটিতে টাকার কোনো হিসাব রাখা হয় না। বিদেশে বসে সভাপতি দিবাকর বাওয়ালী কমিটির মতামত না নিয়ে নিজের খেয়ালখুশিতে সবকিছু চালান। সম্প্রতি অধ্যক্ষ দিবাকর সানার কাছে এমপিওভুক্তির নামে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। সেই টাকা না দেওয়ায় নিয়ম ভেঙে জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর পবন কুমার মন্ডলকে সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদে বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে চলতি দায়িত্বে থাকা সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পবন কুমার মন্ডল কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। আর সভাপতি দিবাকর বাওয়ালী বিদেশে থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকসানা বেগম জানান, গণস্বাক্ষরসহ অভিযোগ পাওয়ার পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়ালিউজ্জামান বলেন, নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।