কালীগঞ্জ (ঝিনইদহ) প্রতিনিধি
সুবর্ণভূমি—
ছবি:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ললিপপ খাওয়ার অপরাধে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটিয়েছেন স্বয়ং মাদরাসার সুপার। তিনি এই কথা স্বীকারও করেছেন।
আহত ছাত্রী শ্রান্তী খাতুনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর মা শারমিন বেগম মাদরাসার সুপারসহ দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে কালীগঞ্জের দামোদরপুর কারামতিয়া দাখিল মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।
শারমিন বেগম বলেন, ‘টিফিনের সময় মাদরাসার কমনরুমে বসে ললিপপ খাওয়ার অপরাধে আমার মেয়ে শ্রান্তীকে শিক্ষকেরা দুই দফা মারধর করেছেন। প্রথম দিন দুপুরে কমনরুমে শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন তাকে মারধর করেন।’
‘পরদিন বুধবার সকালে আবার তাকে মাদরাসার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে সুপার দেলোয়ার হোসেন ও শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন বেত দিয়ে বেধড়ক পেটান। পরে অসুস্থ অবস্থায় মেয়ে বাড়ি এসে ঘটনাটি জানায়।’
তিনি জানান, মেয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেতের আঘাতের চিহ্ন ফুটে ওঠে। পরে তাকে কালীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শিক্ষার্থীর মা আরও জানান, মারধরের ঘটনার পরপরই বিষয়টি জানতে তিনি তার চাচাশ্বশুর মকবুল হোসেনকে ওই মাদরাসায় পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু শিক্ষকেরা তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন।
অভিযুক্ত মাদরাসার সুপার দেলোয়ার হোসেন ফোনে শিক্ষার্থীকে মারধরের কথা স্বীকার করে বলেন, তার প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের ললিপপ খাওয়া নিষেধ।
নিষেধ সত্ত্বেও ওই শিক্ষার্থী মাদরাসায় বসেই ললিপপ খাওয়ার সময় অন্য ছাত্রদের দেখিয়ে বাজে অঙ্গভঙ্গি করছিল। তাই শাসন করতে তাকে কিছুটা মারধর করা হয়েছে। মাদরাসার শিক্ষার পরিবেশ রক্ষার জন্যই এটি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুলফিকার আলী বলেন, ‘মাদরাসার শিক্ষার্থীকে মারধরের একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’