কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
অবশেষে যশোরের কেশবপুর শহরে অবৈধভাবে নির্মীয়মাণ পাঁচতলা ভবনটি দশ দিনের মধ্যে ভেঙে নেওয়ার জন্য চূড়ান্ত নোটিস দিয়েছেন পৌর প্রশাসক। এর পূর্বেও ওই অবৈধ ভবনটি ভেঙে নেওয়ার জন্য ভবন মালিক আনিছুর রহমান ও রুলিয়া পারভীনকে পর পর তিনদফা নোটিস দেওয়া হয়। কিন্তু তারা তা আমলে নেননি।
গত ১৫ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক রেকসোনা খাতুন গত বুধবার দশ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে ওই ভবনটি ভেঙে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। না হলে স্থানীয় সরকার পৌরসভা আইন, ২০২০৮ ও বিএনবিসি-২০৩০ মোতাবেক কেশবপুর পৌরসভার নিজস্ব জনবল দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি অপসারণ করা হবে। যার ব্যয় তাদেরকে বহন করতে হবে।
কেশবপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, উপজেলার বাওশলা গ্রামের আনিছুর রহমান এবং তার স্ত্রী রুলিয়া পারভীন শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে নকশাবহির্ভুতভাবে বিদ্যুতের ৩৩ হাজার ভোল্টের মেনলাইনের মধ্য দিয়ে একটি পাঁচতলা ভবন অবৈধভাবে নির্মাণ করছেন; যা পৌর বিধি লংঘন।
ইতিমধ্যে ওই ভবনে কাজ করতে গিয়ে এক নির্মাণ শ্রমিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত হয়েছেন। এরপর ওই অবৈধ ভবনটি ভেঙে ফেলার জন্য পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন ভবন মালিকদের তিনদফা নোটিস প্রদান করেন। যার সর্বশেষ স্মারক নম্বর-কেশবপুর/পৌর/ ২০২৬/০৪।
সর্বশেষ কারণ দর্শানোসহ সাত দিনের সময়সীমা বেধে দিয়ে নোটিস দেওয়া হলেও তারা ওই ভবনটি আজ পর্যন্ত অপসারণ না করে উল্টো ভবন নির্মাণের কাজ অব্যাহত রাখেন। অবশেষে দশদিন সময় দিয়ে চূড়ান্ত নোটিস দেওয়া হয়েছে।
কেশবপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আলী হায়দার বলেন, আনিছুর রহমান এবং তার স্ত্রী শহরের মধ্যে নকশাবহির্ভূত একটি পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করছেন। তারা বিধি লংঘন করে, বিদ্যুতের মেইন লাইনের মধ্য দিয়ে ভবনটি নির্মাণ করায় তা ঝুঁকিপূর্ণ; যা ভেঙে নেওয়ার জন্য তাদেরকে তিন দফা নোটিস দেওয়া হলেও তারা ভবনটি অপসারণ না করায় সর্বশেষ দশ দিনের সময় দিয়ে নোটিস দিয়েছেন পৌর প্রশাসক। এরমধ্যে ভেঙে না ফেললে পৌরসভার উদ্যোগে ভবনটি ভেঙে ফেলা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক রেকসোনা খাতুনও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।