কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
ঢাকা থেকে গরু বিক্রি করে বাড়ি ফেরার পথে ‘অজ্ঞান পার্টি’র খপ্পরে পড়েছেন ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের দুই গরু ব্যবসায়ী। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ১০ লাখ টাকা লুটে নেয় চক্রটি।
বুধবার (২৭ মে) ভোররাতে ঢাকা-কোটচাঁদপুর সড়কে চলাচলকারী ‘জে-লাইন পরিবহন’ নামের একটি নৈশকোচে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আক্রান্ত ব্যবসায়ীরা হলেন, কোটচাঁদপুর উপজেলার কুশনা গ্রামের এবাদত মন্ডলের ছেলে সবুজ হোসেন (৩৫) এবং ফুলবাড়ি সমাজ কল্যাণ পাড়ার আবুবক্করের ছেলে অহেদুল ইসলাম অতুল।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছরের মতো এবারও ঢাকার বসিলা হাটে কোটচাঁদপুর থেকে ৭টি গরু নিয়ে গিয়েছিলেন এই দুই ব্যবসায়ী। মঙ্গলবার রাতে গরু বিক্রি শেষে নগদ ১০ লাখ টাকা নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে ঢাকার গাবতলী থেকে ‘জে-লাইন পরিবহন’ (J-Line) এর টিকিট কাটেন তারা।
বাসটি ছাড়ার কিছু দূর যাওয়ার পর তারা দুজনেই অচেতন হয়ে পড়েন। পরে ভোররাতে বাসটি কোটচাঁদপুরে পৌঁছালে সবুজ হোসেনের চেতনা আংশিক ফিরলে তিনি দেখতে পান তাদের টাকার ব্যাগটি নিখোঁজ এবং কাপড়ের ব্যাগটি চালকের আসনের সামনে পড়ে আছে।
ভুক্তভোগী সবুজ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, এই ঘটনার সাথে বাসের স্টাফরা সরাসরি জড়িত। কারণ, গাবতলী থেকে বাস ছাড়ার পর থেকেই বাসের সুপারভাইজার কৌশলে আমার পাশের সিটে অতুল ভাইকে বসতে না দিয়ে বারবার অপরিচিত মানুষ বসিয়েছে। কিছু দূর পর পর যাত্রী নামিয়ে আবার নতুন লোক বসানো হয়েছে। এই ঘটনায় তিনি থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ঘটনা জানাজানি হলে ভুক্তভোগীদের পরিবার ও ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা জে-লাইন পরিবহনের অভিযুক্ত বাসটি আটকে রাখে।
কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অমরেন বিশ্বাস জানান, অচেতন অবস্থায় দুই ব্যবসায়ীকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি রাখা হয়েছে। তবে এখনো তারা পুরোপুরি সুস্থ ও শঙ্কামুক্ত নন।
যোগাযোগ করা হলে কোটচাঁদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনসারুল্লাহ হক বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।