স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরের বেনাপোলে সোহাগ হোসেন (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীর ভাড়া বাসায় হামলা ও গুলিবর্ষণের পেছনে ব্যবসায়িক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে বলে আক্রান্তরা দাবি করেছেন।
গত শুক্রবার (৫ জুন) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর শুক্রবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মলনে ঘটনার আদ্যোপান্ত উপস্থাপন করেন ভুক্তভোগী।
ব্যবসায়ী সোহাগ হোসেন বেনাপোল শহরের বড়আঁচড়া এলাকার মৃত হায়দার আলীর ছেলে। তিনি আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায় নিযুক্ত। তার সঙ্গে ব্যবসাসূত্রে প্রায় নয় লাখ টাকা লেনদেন নিয়ে বিরোধ রয়েছে কুতুবউদ্দিন আশা নামে এক ব্যক্তির। সেই সূত্রে গত ৪ তারিখে রেন্ট-এ কারের কার্যালয়ে এসে তাকে এক দফা হুমকি দেয় সন্ত্রাসীরা। এর পরদিনই তার বাড়িতে গুলিবর্ষণ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সোহাগ হোসেন জানান, গত শুক্রবার রাতে তিনি অফিস থেকে ফিরে পরিবারের সদস্যদের সাথে ঘরের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। রাত ১০টার দিকে হঠাৎ ১০ থেকে ১২ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তার বাসার সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিতে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা তার ঘর লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে।
ব্যবসায়ী সোহাগ বলেন, 'হামলাকারীদের ছোড়া একটি গুলি জানালার কাচ ভেঙে সরাসরি ঘরের ভেতরে ঢুকে দেওয়ালে আঘাত করে। আল্লাহর রহমতে আমরা বেঁচে গেছি।'
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। পূর্বের একটি ব্যবসায়িক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তাকে সপরিবারে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তার স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তিনি প্রশাসনের কাছে আকুতি জানিয়ে বলেন, 'একজন সাধারণ ব্যবসায়ী হিসেবে আমি শুধু পরিবার নিয়ে শান্তিতে বেঁচে থাকার অধিকার ও ন্যায়বিচার চাই।'
এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরশাফ আলী জানান, ঘটনার রাতেই খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সেখান থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।