মাগুরা প্রতিনিধি
দাম্পত্য কলহ ও মানসিক অশান্তির জেরে স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখে মাগুরায় আত্মহত্যা করেছেন জিহাদ হোসেন (২০) নামে এক তরুণ। শনিবার গভীর রাতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলেও রবিবার (৭ জুন) সকালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ঘটনাটি মাগুরা শহরের স্টেডিয়ামপাড়া এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
নিহত জিহাদ হোসেন মাগুরা সদর উপজেলার কুঁচিয়ামোড়া ইউনিয়নের আমুরিয়া গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে শহরের স্টেডিয়ামপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রেমের সম্পর্কের পর প্রায় দেড় বছর আগে ঝালকাঠি জেলার মীম খাতুনের সঙ্গে জিহাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর সুখের সংসার গড়ার স্বপ্ন থাকলেও সময় পেরোনোর সাথে সাথে তাদের সম্পর্কেও দূরত্ব ও টানাপড়েন তৈরি হয়।
স্বজনরা বলছেন, ঈদ উপলক্ষে বাবার বাড়ি যাওয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। জিহাদ নিজে ঈদের নামাজের পর স্ত্রীকে বাবার বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বললেও তা নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তার স্ত্রী একাই বাবার বাড়িতে চলে যান এবং পরে আর ফিরে আসেননি।
নিহতের কাকি লিমা খাতুন বলেন, ‘জিহাদ তার স্ত্রীকে বারবার ফিরে আসার অনুরোধ করেছে। ফোনে অনেক বুঝিয়েছে, কিন্তু তাকে ফিরিয়ে আনতে পারেনি। এতে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল।’
ছোট বোন অপর্ণা বলেন, ‘ভাইয়া অনেকবার ভাবিকে ফিরে আসতে বলেছে। কিন্তু তিনি রাজি হননি। সেই কষ্ট ও অভিমান থেকেই ভাইয়া আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে আমরা মনে করি।’
পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বলছেন, শনিবার দিবাগত রাতে স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখেই আত্মহত্যা করেন জিহাদ। মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগে ছিলেন। ভিডিও কল চালু অবস্থায়ই তার জীবনাবসান ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
মাগুরা সদর থানার এসআই আসাদুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় জিহাদের মরদেহ রয়েছে। ভিডিও কল চালু থাকা অবস্থায় তার মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ঘটনার বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’