যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

মেহেরপুর সীমান্ত দিয়ে সাতজনকে ঠেলে পাঠানোর অভিযোগ

মেহেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ : রবিবার, ৭ জুন,২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
আপডেট : রবিবার, ৭ জুন,২০২৬, ০৮:১২ পিএম
মেহেরপুর সীমান্ত দিয়ে সাতজনকে ঠেলে পাঠানোর অভিযোগ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্ত এলাকার নতুন একটি পয়েন্ট দিয়ে সাত ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার ভোরে তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্তের ১০৩ নম্বর মেইন পিলারের কাছে চারজন পুরুষ ও তিনজন নারীকে দেখা যায়। পরে তারা বিভিন্নভাবে বাংলাদেশের ভেতর ঢুকে এলাকা ত্যাগ করেন। এ ঘটনায় পুলিশ ওই ব্যক্তিদের ধরতে বিভিন্ন সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালায়।

স্থানীয় একটি সূত্র মতে, শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে ওই সাতজন সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে ঢোকে। ভোরের দিকে তারা বামন্দী এলাকায় পৌঁছে দূরপাল্লার বাসে উঠে তাদের গন্তব্যে চলে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জানান, রাতের আঁধারে কয়েকজনকে সীমান্ত পেরিয়ে এপারে আসতে দেখা যায়। পরে তারা আশপাশের বাড়িঘরে আশ্রয় নেয় এবং ভোর হওয়ার আগেই এলাকা ত্যাগ করে।

স্থানীয় ভ্যানচালক আকুববার আলী বলেন, শনিবার ভোরে ব্যাগ হাতে ছয়জন যাত্রী তার ভ্যানে ওঠেন। তারা এমন একটি স্থানে যেতে চান, যেখান থেকে দূরপাল্লার বাসে ওঠা যায়। ভাড়া বাবদ ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয় এবং পরে তারা বিকাশের মাধ্যমে সেই টাকা পরিশোধ করেন।

তিনি আরও জানান, যাত্রীদের সঙ্গে কথোপকথনে তারা দাবি করেন, প্রায় ১৮ বছর আগে ভারতে গিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন এবং ভারতীয় নাগরিকত্বসংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্রও রয়েছে তাদের। তবে এনআরসির কারণে তারা সমস্যায় পড়েছেন বলে জানান।  তাদের নিজেদের বাড়ি গোপালগঞ্জ ও মাগুরা জেলায় বলে উল্লেখ করলেও সুনির্দিষ্ট পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা মাসুম আলী বলেন, শুক্রবার গভীর রাতে একজন নারী তাদের আমবাগানে আশ্রয় নেন। তিনি নিজের নাম রোজিনা বলে পরিচয় দেন এবং কান্নাকাটি করছিলেন। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা বলেন, ‘আমাদের জানামতে এ সীমান্ত দিয়ে কোনো পুশইনের ঘটনা ঘটেনি। তবে দীর্ঘ সীমান্ত এলাকার কোনো অংশ দিয়ে গোপনে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে আমাদের কাছে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, শনিবার ভোরে তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্তের আন্তর্জাতিক পিলার ১৪০ এর ৫ এসের গেট দিয়ে ছয়জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর বাধার মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ওই ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করা হয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

এর মধ্যেই একই সীমান্ত এলাকার অন্য একটি পয়েন্ট দিয়ে সাতজনের বাংলাদেশে প্রবেশের অভিযোগ উঠলো। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)