স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোর শহরের আরবপুর এলাকার ২৩ দশমিক ৮৬ শতক বিক্রিত জমি নিয়ে ‘মিথ্যা অপপ্রচার, হয়রানি ও জমি দখলের চেষ্টার’ প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দুই ব্যবসায়ী।
আজ সোমবার (৮ জুন) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে বেনাপোলের দুই ব্যবসায়ী এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। গত ৬ জুন প্রতিপক্ষ সায়াদ হোসেনের করা সংবাদ সম্মেলনের জবাবে পাল্টা এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ক্রেতাপক্ষের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিয়ামুজ্জামান। লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, আরবপুর এলাকার জমির মূল মালিক মরহুম আব্দুস সালাম সরদার (হবি সরদার) ২০২৪ সালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তার চিকিৎসার বিপুল খরচ মেটাতে তিনি নিজের একমাত্র কন্যা ও জামাতার উপস্থিতিতে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে বর্তমান ক্রেতাপক্ষের কাছে ওই ২৩ দশমিক ৮৬ শতক জমি বিক্রি করেন। জমি বিক্রির টাকা উত্তোলনের সময় মরহুমের স্ত্রী ও এক ছেলেও সেখানে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। জমি বিক্রির কিছুদিন পর তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
ক্রেতারা জানান, জমি ক্রয়ের পর তারা নিয়ম মেনে সরকারিভাবে নামজারি (মিউটেশন) সম্পন্ন করেন এবং খাজনা পরিশোধ করে সীমানা প্রাচীর (বাউন্ডারি) দিয়ে জমিটি ভোগদখল করে আসছিলেন। এমনকি জমির একটি অংশ তারা লেদ কারখানার জন্য ভাড়াও দেন। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে প্রতিপক্ষ সায়াদ হোসেন ও তার লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে অবৈধভাবে জমিটি দখলের চেষ্টা চালায় এবং সীমানা প্রাচীর ও কারখানার ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিপক্ষের সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন দাবি করে ক্রয়কৃত জমিতে অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ এবং অপপ্রচার রোধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৬ জুন সায়াদ হোসেন সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছিলেন, পিতার মৃত্যুর পর আসাদুজ্জামান, বাবলু তালুকদার, আনিসুর রহমান, ইয়াসিন ও এ কে এম আতিকুজ্জামান ছানিসহ একটি চক্র বিভিন্ন সময়ে তাদের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালায়।
এ ঘটনায় আদালতে দেওয়ানি মামলা করা হলে আদালত সংশ্লিষ্ট জমির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন এবং পরবর্তীতে আপিল আদালতেও তাদের পক্ষে রায় আসে। প্রতিপক্ষ একটি সন্দেহজনক দলিল দেখিয়ে সম্পত্তির মালিকানা দাবি করছে এবং ওই দলিল বাতিলের দাবিতে যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে পৃথক দুটি দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বাবলু তালুকদার দীর্ঘদিন ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকার পর ভাড়া প্রদান বন্ধ করে সম্পত্তির মালিকানা দাবি করছেন বলেও সায়াদ হোসেন অভিযোগ করেছিলেন।
আজকের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জমির মূল ক্রেতা এ কে এম আতিকুজ্জামান, মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, হাসানুজ্জামান, নাজমুল ইসলাম, আনিসুর রহমান ও মোখলেছুর রহমানসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা।