স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কাশীপুর সিদ্দিকীয়া আলিম মাদরাসার পরিচালনা পর্ষদ গঠন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘকাল ধরে কোনো নির্বাচন ছাড়াই সুকৌশলে ‘পকেট কমিটি’ গঠনের মাধ্যমে মাদরাসাটি পরিচালনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা হাসানুল কাদীর। তিনি মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাতাকালীন সদস্য কামরুল কাদীর টুকুর ছেলে।
অনিয়মের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন হাসানুল কাদীর।
লিখিত অভিযোগে তিনি জানিয়েছেন, মাদরাসার বর্তমান অধ্যক্ষ মো. মতিয়ার রহমানকে সাথে নিয়ে সুকৌশলে কোনো প্রকার নির্বাচন না করে নিজেদের মনগড়া ও পছন্দের সদস্যদের তালিকা তৈরি করে গভর্নিং বডি গঠন করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৪ মার্চ প্রথমে কমিটির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন হাসানুল কাদীর। এই নিয়োগ চূড়ান্ত করার জন্য বোর্ড বসার কথা থাকলেও সিন্ডিকেটের মধ্যে টাকার ভাগাভাগি নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল সৃষ্টি হওয়ায় ওই দিন বোর্ড স্থগিত হয়ে যায়। পরে গোপনে নিয়োগ বাতিল করে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সভাপতি বানানো হয় বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
এছাড়াও আরেকটি লিখিত অভিযোগে হাসানুল কাদীর দাবি করেছেন, মাদরাসায় ‘পরিচ্ছন্নতা কর্মী’ নিয়োগের নামে ১১ লাখ টাকার গোপন বাণিজ্য করেছে বর্তমান কমিটি।
কাশীপুর গ্রামবাসীর পক্ষে মো. হাসানুল কাদীর, মো. শাহাবুব রহমান, মো. মহিউদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন স্বাক্ষরিত ওই অভিযোগে বলা হয়েছে, মাদরাসার ‘পরিচ্ছন্নতা কর্মী’ পদে সম্পূর্ণ গোপনীয়ভাবে বিধিবহির্ভূত উপায়ে একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। এই পদের বিপরীতে প্রার্থী মো. আব্দুল হাইয়ের সাথে ১১ লাখ টাকার আর্থিক লেনদেনের চুক্তি হয়; যার মধ্যে প্রথম কিস্তিতে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়েছে।
এবিষয়ে, হাসানুল কাদীর বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন ছাড়া পকেট কমিটি করে মাদরাসাটিকে কুক্ষিগত করে রাখা হয়েছে। আমরা স্থানীয়রা এই অন্যায়ের প্রতিবাদ জানিয়েছি। নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের দাবি করছি।’
অভিযোগের বিষয়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মতিয়ার রহমান বলেন, ‘একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ঘিরে কিছু জটিলতা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপে সেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিল করা হয়েছে। এবং নতুন কমিটি নিয়ম অনুযায়ী সবকিছু করছে। তবে কমিটির ব্যাপারে মাদরাসা বোর্ডে একজন অভিযোগ দিয়েছেন, বর্তমানে সেটি তদন্তনাধীন রয়েছে। ফলে এবিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারবো না।’
মণিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এসএম সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, কাশীপুর সিদ্দিকীয়া আলিম মাদরাসার পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে গোপনীয়ভাবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রদান এবং মনগড়া গভর্নিং বডি অনুমোদনের বিষয়ে একাধিক তদন্ত হয়েছে। যেহেতু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিল হয়েছে, ফলে ঘুসবাণিজ্যের বিষয়টি এখন আর থাকার কথা না। অন্যদিকে কমিটির বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেন অভিযোগের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন।
এদিকে, শতবর্ষী এই দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্মান রক্ষা এবং কথিত দুর্নীতির সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।