স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষানীতি ও গবেষণার অভাবে প্রযুক্তি খাতে মেধার সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে, বিজ্ঞানে শিক্ষিত গ্রাজুয়েটরা ডিগ্রি অর্জনের পর বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট ক্যারিয়ার ছেড়ে অ-বিজ্ঞান সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে চলে যাচ্ছেন। এর ফলে শিক্ষা ব্যবস্থা বিপুল সংখ্যক ডিগ্রিধারী বানালেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে যোগ্য জনবল ধরে রাখতে পারছে না। এতে দেশের শ্রমবাজার এবং জাতীয় অর্থনীতি ব্যাপক ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) বাংলাদেশে বিজ্ঞান শিক্ষার তত্ত্ব ও প্রয়োগের ব্যবধান দূরীকরণ শীর্ষক অ্যাকাডেমিক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল গ্যালারিতে কেআরটিসি দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের উদ্যোগে এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের সহযোগিতায় এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে মূল বক্তা এবং গবেষণা সমন্বয়কারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব সিগেন থেকে উচ্চতর ডিগ্রিধারী এবং কেআরটিসির প্রতিষ্ঠাতা মো. জাকারিয়া হোসেন।
সেমিনারে তিনি বাংলাদেশে বিজ্ঞান শিক্ষার বর্তমান সংকট, সীমাবদ্ধতা এবং কাঠামোগত নীতিগত সমস্যাগুলো তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে শিক্ষার্থীরা নামমাত্র হাতে-কলমে কাজ বা ল্যাবরেটরি সুবিধা নিয়ে ডিগ্রি শেষ করছে। ফলে, তাদের ব্যবহারিক দক্ষতা অত্যন্ত দুর্বল থেকে যাচ্ছে। বর্তমান পাঠ্যক্রম মূলত তাত্ত্বিক এবং পাঠ্যবই-কেন্দ্রিক, যার সাথে বাস্তব কর্মজগতের কোনো মিল নেই। এছাড়া স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের জন্য মেন্টরশিপ বা বৈজ্ঞানিক গবেষণার সুযোগ একেবারেই সীমিত।
বক্তারা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রতি শিক্ষার্থীর পেছনে সরকারের প্রতি বছর প্রায় ৮৭ হাজার থেকে দুই লাখের বেশি টাকা ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু গবেষণাগার ও সঠিক নীতির অভাবে এতো বড় বিনিয়োগের বিপরীতে কাঙ্ক্ষিত বৈজ্ঞানিক আউটপুট বা দেশীয় প্রযুক্তিগত উন্নয়ন আসছে না।
সেমিনারে বক্তারা এই তত্ত্ব ও প্রয়োগের ব্যবধান দূর করতে পাঠ্যক্রমের আধুনিকায়ন, ল্যাবরেটরি সুবিধা বৃদ্ধি, স্নাতক পর্যায় থেকে গবেষণায় তহবিল বরাদ্দ এবং বিজ্ঞান গ্রাজুয়েটদের জন্য আকর্ষণীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টির ব্যাপারে সরকারের নীতিগত পরিবর্তন ও বড় বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. দিলীপ কুমার সরকার এবং ড. শাহ মো. শাহান শাহরিয়ার ।