যশোর, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

সাতক্ষীরায় বিজ্ঞান-উদ্ভাবনী মেলার উদ্বোধন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশ : শুক্রবার, ১২ জুন,২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
সাতক্ষীরায় বিজ্ঞান-উদ্ভাবনী মেলার উদ্বোধন

'মেধা-বিজ্ঞান-উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ' এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সদর উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের 'স্টার্টআপ বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী'। শুক্রবার (১২ জুন) সকালে সাতক্ষীরা নবারুণ বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (ইইএসএস), এসইডিপি এবং ঢাকার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আয়োজনে ও সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সহযোগিতায় এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

মেলা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলমগীর কবীর এবং সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবুল হোসেন।

অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন নবারুণ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মালেক গাজী, সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আব্বাস আলী সরদার এবং সাবেক প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ মনজুরুল হক। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উপমা আহমেদ নাবিলা।

খুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন ও প্রকল্প মূল্যায়নে বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী ইয়াকুব আলী, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নিত্যানন্দ কুমার, আইসিটি বিভাগের প্রভাষক দেবাশীষ দাস এবং সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আফজাল করিম।

উপজেলা পর্যায়ের এই বিজ্ঞান প্রদর্শনীতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১৮টি স্টল স্থান পায়। মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। স্টলগুলোতে খুদে বিজ্ঞানীরা তাদের চমৎকার সব উদ্ভাবনী আইডিয়া ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করে সবার নজর কাড়েন।

মেলার প্যান্ডেলে ঢুকতেই প্রথমে চোখে পড়ে বাঁকাল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্টল। কারখানার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া থেকে কার্বন শোষণ করে কীভাবে বাতাসে সাদা ধোঁয়া ছাড়া যায় এবং পরিবেশ সুরক্ষিত রাখা যায়, সেই প্রযুক্তি প্রদর্শন করে তারা নজর কেড়েছে। একই ধরনের প্রযুক্তি প্রদর্শন করেছে সাতক্ষীরা পলাশপোল হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরাও।

সাতক্ষীরা প্রাণনাথ হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা বর্জ্য ব্যবহার করে কীভাবে শক্তি উৎপাদন করা যায়, তা প্রদর্শন করে। অন্যদিকে সাতক্ষীরা টাউন গার্লস হাইস্কুলের স্টলে প্রদর্শন করা হয় পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস প্রযুক্তি।

দেশের সীমান্ত রক্ষা ও নিরাপত্তা জোরদারে অটো রাডার ও মিসাইল সিস্টেম কীভাবে কাজ করে, তা প্রযুক্তির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছে সাতক্ষীরা টেকনিক্যাল স্কুলের শিক্ষার্থীরা।

চমৎকার পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় একটি সমৃদ্ধ আধুনিক কৃষি ও খামার প্রকল্প প্রদর্শন করে নজর কেড়েছে দ্য পোল স্টার অ্যান্ড পৌর হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা। ভিন্নধর্মী এক আইডিয়া নিয়ে হাজির হয়েছিল পল্লী মঙ্গল হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা; রাস্তার ওপর দিয়ে মানুষ হাঁটলে বা চাপ পড়লেই কীভাবে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা সম্ভব, তা দেখিয়েছে তারা।

মেলায় নবারুণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি মেগা প্রকল্প প্রদর্শন করে। আগামী ৫০ বছর পর সাতক্ষীরা শহর কেমন হতে পারে, তার একটি দারুণ চিত্র তুলে ধরেছে তারা। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পানি ও খাদ্য, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং বাসস্থানের আধুনিক রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়।

ফসলের মাঠ বা টবের মাটি শুকিয়ে গেলে কীভাবে মানুষের সাহায্য ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেচ দেওয়া সম্ভব, সেই অভিনব প্রযুক্তি দেখিয়েছে ডিবি ইউনাইটেড হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা। আর পানি বিশুদ্ধকরণের সহজ প্রযুক্তি প্রদর্শন করেছে সাতক্ষীরা নবজীবন ইনস্টিটিউটের খুদে বিজ্ঞানীরা।

বল্লী আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেখিয়েছে কীভাবে পানির সাহায্যে রকেট উড্ডয়ন করা যায়। একই সাথে তারা সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের উপায়ও প্রদর্শন করে। অন্যদিকে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে কাজ করেছে canক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

মেলায় বেশ নান্দনিক উপস্থাপনা ছিল সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। অতিরিক্ত লোড বা ওজনের কারণে পিচের রাস্তা নষ্ট হওয়া রোধে তারা একটি প্রযুক্তি প্রদর্শন করে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো যানবাহন অতিরিক্ত লোড নিলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে থেমে যাবে এবং চালক আগাম সতর্কবার্তা পেয়ে যাবেন। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ও ট্রাফিক জ্যাম নিয়ন্ত্রণেও তারা পৃথক প্রদর্শনী করে সবার নজর কাড়ে।

খুদে বিজ্ঞানীদের এমন সব উদ্ভাবনী ও আধুনিক চিন্তাভাবনা মেলায় আসা শিক্ষক, বিচারক ও দর্শনার্থীদের ভীষণভাবে মুগ্ধ করেছে।

সাতক্ষীরা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলমগীর কবীর জানান, জেলার সাতটি উপজেলায় ১৯৪টি স্টলে শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীল প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে। আগামী ১৪ জুন অনুষ্ঠিত হবে জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা। এরপর জাতীয় পর্যায়ে জেলা থেকে বিজয়ী দল অংশ নেবে। জাতীয় পর্যায়ে সারা দেশ থেকে ১০০টি দল অংশগ্রহণ করবে এবং সেখান থেকে সেরা ১০টি দলকে পুরস্কৃত করা হবে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)