নদী-খালের ৩০২ দখলদার উচ্ছেদে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে জেলা প্রশাসনের চিহ্নিত ৩০২ জন নদী-খাল দখলদারকে অবিলম্বে উচ্ছেদ এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটি।
এ দাবির সঙ্গে নদী ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যতে দখল প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
শনিবার (১ আগস্ট) শহরের পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক নাগরিক পরামর্শ সভায় বক্তারা বলেন, জেলা প্রশাসন সম্প্রতি ইছামতি, কপোতাক্ষ, বেতনা, মরিচ্চাপ, যমুনা ও খোলপেটুয়া নদীসহ জেলার নৌখালের ৩০২ জন দখলদারের তালিকা প্রকাশ করেছে।
তবে তালিকা প্রকাশের পরও উচ্ছেদ কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত তালিকা বাস্তবায়নের দাবি জানান।
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সহযোগিতা করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের পাশাপাশি অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ ও দীর্ঘদিনের নদী-খাল দখলের কারণে সাতক্ষীরার জলাবদ্ধতা ক্রমেই প্রকট হচ্ছে।
শুধু ড্রেনেজব্যবস্থার উন্নয়ন বা অবকাঠামো নির্মাণ করে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নদী ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে দখলদারদের উচ্ছেদ, নদীর সীমানা সংরক্ষণ এবং নিয়মিত নজরদারি জরুরি।
সভা থেকে দশ দফা নাগরিক সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। সুপারিশের মধ্যে রয়েছে—নদীর সীমানা নির্ধারণ করে ডিজিটাল মানচিত্র প্রণয়ন, চিহ্নিত দখলদারদের বিরুদ্ধে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা, সিএস ম্যাপ অনুযায়ী নদী-খাল পুনঃখনন, টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) কার্যকর করা এবং পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন ছাড়া কোনো অবকাঠামো নির্মাণ না করা।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন বেলাল বলেন, ‘নদী বাঁচলে সাতক্ষীরা বাঁচবে। জেলা প্রশাসন ৩০২ জন দখলদারের তালিকা প্রকাশ করলেও উচ্ছেদ কার্যক্রম প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্র্যাশ প্রোগ্রাম গ্রহণ করে দ্রুত নদী-খাল দখলমুক্ত করতে হবে।’
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, শিক্ষাবিদ ও সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম, সাবেক সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপ্পী, দৈনিক দক্ষিণের মশাল-এর সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী এবং বেলার বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল।
সভা পরিচালনা করেন জেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আলীনুর খান বাবুল।
সভা শেষে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে হস্তান্তরের জন্য ‘সাতক্ষীরা নাগরিক সুপারিশপত্র’ প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।