সাধারণ সম্পাদকসহ অনেকেই সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা
বাগেরহাট প্রতিনিধি
কোনো নির্বাচন বা সদস্যদের ভোটগ্রহণ ছাড়াই বাগেরহাটের মহিষপুরা-খুলনা আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে মালিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ও মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোটের সভাপতি সোমনাথ দে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি গত ১৩ জুলাই দুই বছরের জন্য নতুন কমিটির অনুমোদন দেয়। তবে অধিকাংশ সদস্য এ বিষয়ে অবগত হন ৩০ জুলাই, যখন নতুন সাধারণ সম্পাদক সোমনাথ দে সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন।
এরপর থেকেই কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন একাধিক সদস্য।
নতুন কমিটির সভাপতি হয়েছেন শেখ মাসুদুর রহমান। এছাড়া সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ আতাহার আলী মন্টু, সহ-সভাপতি বিকাশ কুমার দাশ, সাধারণ সম্পাদক সোমনাথ দে, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ কুমার দাশ বাবলু, সহ-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ স্বপন কুমার দাস এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন মলয় কৃষ্ণ দাশ ও শেখ মোস্তফা।
সমিতির একাধিক সদস্যের অভিযোগ, সাধারণ সদস্যদের মতামত বা ভোট ছাড়াই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, একটি মালিক সমিতির নেতৃত্ব নির্ধারণে নির্বাচনের বিকল্প নেই।
বিষয়টি নিয়ে মালিকদের পাশাপাশি খুলনা-বাগেরহাট-পিরোজপুর মহাসড়কসংলগ্ন বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ও স্টপেজ এলাকাতেও আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
এদিকে, কমিটির কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ পদধারীর অতীত রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সদস্যদের একাংশ। তাদের অভিযোগ, সভাপতি শেখ মাসুদুর রহমান অতীতে আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষক ও অর্থের যোগানদাতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ আতাহার আলী মন্টু আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তার মেয়ের জামাতা সাইফুল ইসলামকে সহ-সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
একই পরিবারের দুজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখাকে অনেক সদস্য অনৈতিক বলে মন্তব্য করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, সহ-সভাপতি বিকাশ কুমার দাশ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ কুমার দাশ বাবলু, কোষাধ্যক্ষ স্বপন কুমার দাস এবং সদস্য মলয় কৃষ্ণ দাশও অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
সদস্য শেখ মোস্তফা সভাপতি শেখ মাসুদুর রহমানের আপন ভাই হওয়ায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগও উঠেছে।
সোমনাথ দে অতীতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সভাপতি এবং মোরেলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। গত বছরের আগস্টের শেষ দিকে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেন।
এর আগে তিনি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সংখ্যালঘুবিষয়ক উপদেষ্টা, মোরেলগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক এবং ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-৪ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছিলেন।
পরবর্তীতে তিনি বিএনপির মনোনয়নে একই আসনে জাতীয় সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করেন, যা সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
সমিতির সাধারণ সদস্যদের দাবি, বর্তমান কমিটি বাতিল করে ভোটের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হোক।
তবে সোমনাথ দে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচন করায় অনেক সদস্য প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে অনিচ্ছুক বলে জানিয়েছেন।