খুলনা প্রতিনিধি
জাতীয় মৎস্য পক্ষের মূল্যায়ন ও সমাপনী অনুষ্ঠান মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম।
জাতীয় মৎস্য পক্ষের এবারের প্রতিপাদ্য 'রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ'।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বদরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে খুলনা মৎস্য অধিদপ্তরের কোয়ালিটি কন্ট্রোল ল্যাবরেটরির কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স ম্যানেজার মুক্তাদির খান, মৎস্য দপ্তরের উপপরিচালক বিপুল কুমার বসাক ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক এ.টি.এম. তৌফিক মাহমুদ বক্তৃতা করেন। দুই দিনব্যাপী মৎস্য পক্ষের মূল্যায়ন বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সহকারী পরিচালক উজ্জ্বল কুমার রায়।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি দেশের পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা পূরণের অঙ্গীকার। দেশের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান মেনে মৎস্য উৎপাদন বাড়িয়ে নিজেদের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানি আয়ও বৃদ্ধি করতে হবে। শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, গুণগত মান বজায় রেখে নিরাপদ মাছ উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে।
তারা বলেন, বিশ্বের প্রায় সব মানুষই মাছ খায়, তবে অঞ্চলভেদে মাছ খাওয়ার পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে। মাছ মানুষের জন্য অত্যন্ত উপকারী ও পুষ্টিকর খাদ্য। বাংলাদেশের প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের ওপর জীবিকা নির্বাহের জন্য নির্ভরশীল। মৎস্য চাষের মাধ্যমে একদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে মানুষের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি আর্থিকভাবেও লাভবান হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের পাশাপাশি নিরাপদ ও টেকসই মৎস্য চাষ সম্প্রসারণ করতে হবে। মৎস্যসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ মাছ উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়িয়ে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে আরো স্বনির্ভর করে তুলতে হবে।
সমাপনীতে মৎস্যচাষি, মৎস্যজীবী, মৎস্য আহরণকারীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।