মাগুরা প্রতিনিধি
উৎসবমুখর পরিবেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মাগুরা মেডিকেল কলেজের অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কলেজের সাড়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার সকালে মাগুরা সিভিল সার্জন কার্যালয় প্রাঙ্গণে বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান।
এ সময় মাগুরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. কামরুল হাসান, সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবির, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মহসিন উদ্দিন ফকির, কলেজের বিভাগীয় প্রধান ডা. আব্দুল্লাহেল কাফি, সহযোগী অধ্যাপক ডা. আব্দুল হাইসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বেলুন ও কবুতর উড়ানোর পর শিক্ষার্থীরা নানা সাজে সজ্জিত হয়ে ভুভুজেলা ও বাঁশি নিয়ে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি সদর হাসপাতাল থেকে বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
পরে মাগুরা মেডিকেল কলেজের হলরুমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। স্মৃতিচারণ শেষে শিক্ষার্থীরা উন্মুক্ত আড্ডায় মিলিত হন।
বিকেলে মাগুরা জেলা অডিটোরিয়ামে কলেজের আয়োজনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রয়েছে। এতে মাগুরা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করবেন।
মাগুরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. কামরুল হাসান বলেন, ২০১৮ সালে মাগুরা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি সপ্তম বছর পেরিয়ে অষ্টম বছরে পদার্পণ করেছে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো কলেজটি নিজস্ব ক্যাম্পাস পায়নি। শিক্ষক সংকট থাকলেও মেডিকেল পরীক্ষার ফলাফলে খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের মধ্যে টানা চারবার প্রথম স্থান অর্জন করেছে মাগুরা মেডিকেল কলেজ। এছাড়া এক বছরের মধ্যে এ কলেজের ১১ শিক্ষার্থী সফলভাবে এফসিপিএস সম্পন্ন করেছেন, যা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম বড় অর্জন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও মানসম্মত পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করতে দ্রুত মাগুরা মেডিকেল কলেজের নিজস্ব ভবন ও ক্যাম্পাস নির্মাণ প্রয়োজন।
প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সায়মা আলী বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে আনন্দে মিলিত হয়েছেন। তবে নিজস্ব ক্যাম্পাস না থাকায় শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আধুনিক চিকিৎসাশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক ল্যাবসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে দ্রুত নিজস্ব ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবি জানান তিনি।