মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
মণিরামপুরে নির্মাণাধীন ঘরের ভেতর থেকে ৪৫টি গাঁজাগাছ জব্দ। এ ঘটনায় বাড়ির মালিক মাহফুজা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সুবর্ণভূমি-
ছবি:
যশোরের মণিরামপুরে নির্মাণাধীন একটি ইটের ঘরের ভেতর থেকে ৪৫টি জীবিত গাঁজাগাছ জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বাড়ির মালিক মাহফুজা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা গাঁজাগাছের ওজন এক মণের বেশি হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার চাকলা গ্রামে অভিযান চালায় রাজগঞ্জ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ। এ সময় নির্মাণাধীন ঘর থেকে গাঁজাগাছগুলো জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় ওই রাতেই মণিরামপুর থানায় মাহফুজা বেগমের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করা হয়েছে। তার স্বামী সালমান হোসেন ভারতে থাকেন।
রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক কামাল হোসেন বলেন, মাহফুজার বসতভিটায় ইটের একটি নির্মাণাধীন ঘর রয়েছে। ঘরটির সামনের দেয়াল উঁচু করে তোলা হলেও এখনো চালা দেওয়া হয়নি। অপর তিন পাশের দেয়ালও আংশিক নির্মাণ করে প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে ঘেরা। ওই ঘরের ভেতরেই ৪৫টি গাঁজার চারা বেড়ে উঠছিল।
পরিদর্শক কামাল হোসেন বলেন, গাঁজাগাছগুলো জব্দের পাশাপাশি মাহফুজা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাহফুজার স্বামী ভারতে থাকেন। সেখানে তিনি গাঁজার ব্যবসা করেন। বাংলাদেশ থেকে গাঁজা নিয়ে ভারতে ব্যবসা করেন বলেও পুলিশ জানতে পেরেছে। তার এই ব্যবসা দীর্ঘদিনের।
কামাল হোসেন বলেন, উদ্ধার করা গাঁজাগাছের ওজন এক মণের বেশি হবে। এ ঘটনায় মাহফুজার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
এদিকে পুলিশের অভিযানের সময় ধারণ করা একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে মাহফুজা বেগম দাবি করেন, তার ছোট মেয়ে একটি চারা এনে ঘরের ভেতরে রোপণ করেছিল। ওই গাছ থেকে বীজ পড়ে অন্য গাছগুলো জন্ম নেয়। শিশুটিও দাবি করেছে, ফুলগাছ মনে করে সে চারাটি এনে রোপণ করেছিল।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ইসলাম গাজী বলেন, মাহফুজা তার বাবার ভিটায় থাকেন। তার স্বামী সালমান ভারত থেকে এসে তাকে বিয়ে করে এখানে থাকতেন। তিনি ভ্যানে করে ভাঙারি মালামাল কিনতেন। তারা গাঁজার ব্যবসা করেন, এমন কথা স্থানীয়রা কখনো শোনেননি।
ইসলাম গাজী আরও বলেন, মাহফুজা গরিব মানুষ। বাজার থেকে সাহায্য তুলে হয়তো তার জামিনের ব্যবস্থা করতে হবে।
তবে মাহফুজার ওই দাবি সত্য নয় বলে জানিয়েছেন রাজগঞ্জ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক কামাল হোসেন।