সুবর্ণভূমি ডেস্ক
ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ইন্ডি জোটের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। একই সঙ্গে বিরোধীদলগুলোর ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তাও দেন তিনি।
এদিন দুপুরে ২০টি বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীদের নিয়ে বৈঠকে বসে ইন্ডি জোট। বৈঠকে আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও গ্রেপ্তারের দাবি। বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে।
খাড়্গে জানান, আগামী ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন থেকে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচি শুরু করবে বিরোধীরা। এ কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন জেলায় যৌথ মিছিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এরপর ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন অভিযানে নামবেন বিরোধী দলের সাংসদেরা। লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্যরা মিছিল করে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে যাবেন বলে জানান খাড়্গে।
তৃতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এ জন্য অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাষ্ট্রপতির কাছে সময় চাওয়া হবে বলে জানান তিনি।
চতুর্থ কর্মসূচিতে দেশের পাঁচটি বড় শহরে ‘ভোটচুরি’ ইস্যুতে জনসভা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত পাঁচটি জনসভা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান খাড়্গে।
পঞ্চম কর্মসূচি হিসেবে নভেম্বরের শুরুতে দিল্লিতে একটি মেগা জনসভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইন্ডি জোট। ওই জনসভায় রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিরোধী দলের নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।
ষষ্ঠ কর্মসূচিতে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরের মতভেদ নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় কতটা প্রভাব ফেলছে, তা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরবেন বিরোধী নেতারা।
সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বড় দুর্নীতি হয়েছে। এর ফল ভোগ করছে সাধারণ মানুষ।’ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কটাক্ষ করে তিনি তাঁকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলেও উল্লেখ করেন।
মমতা বলেন, ‘আপনাকে পদত্যাগ করতেই হবে। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছেন।’
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে মমতা আরও বলেন, দাবি পূরণ না হলে গণআন্দোলনের পথে যাবে বিরোধীরা। একই সঙ্গে তিনি বিরোধী দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
বৈঠকে সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব ও আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল উপস্থিত ছিলেন না। ডিএমকের পক্ষ থেকেও বৈঠকে উপস্থিতি ছিল না। এরপরও সাংবাদিক সম্মেলনে বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ চেহারা তুলে ধরার চেষ্টা করেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, সনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীসহ অন্য নেতারা।
এদিকে ভোটচুরি নিয়ে সরব হন খাড়্গে। তিনি বলেন, ‘বিজেপি ভোট চুরি করে জিতছে। সবাই একজোট হয়ে লড়াই করব।’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাশে বসিয়ে খাড়্গে আরও দাবি করেন, ভোটচুরি নিয়ে রাহুল গান্ধীই সবার আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
খাড়্গের অভিযোগ, ‘নির্বাচন কমিশনকে পুতুলের মতো ব্যবহার করছেন মোদী-শাহ। ঘুঁটি হিসেবে ২-৩ জনকে সামনে সাজিয়ে রেখেছেন। তারাই ভোট চুরি করে বিজেপিকে জেতাচ্ছেন।’
ইন্ডি জোটের ঘোষিত ছয় দফা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, ভোটাধিকার এবং কথিত ‘ভোটচুরি’ ইস্যুতে বিরোধীরা আগামী দিনে সম্মিলিতভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে।