যশোর, বাংলাদেশ || রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

নতুন বেতনকাঠামোর পে ফিক্সেশন শুরু ৫ অক্টোবর, তিন মাসের বেতন এক সাথে

শেষ করতে হবে ২০ অক্টোবর, যা যা লাগবে

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : রবিবার, ৪ অক্টোবর,২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
আপডেট : রবিবার, ৪ অক্টোবর,২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম
নতুন বেতনকাঠামোর পে ফিক্সেশন শুরু ৫ অক্টোবর, তিন মাসের বেতন এক সাথে

নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের (পে ফিক্সেশন) কাজ শুরু হচ্ছে আগামীকাল সোমবার (৫ অক্টোবর)। আইবাস প্লাস প্লাসের পে ফিক্সেশন মডিউলে অনলাইনে এ কাজ করতে হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ২০ অক্টোবরের মধ্যে পে ফিক্সেশন শেষ করতে বলেছে।

পে ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে প্রায় তিন মাসের বকেয়া বা এরিয়ার পাওয়ার কথা রয়েছে সরকারি চাকরিজীবীদের। তবে কে কত টাকা বকেয়া পাবেন, তা নির্ভর করবে নতুন বেতন নির্ধারণের ওপর। গ্রেড, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে থাকা মূল বেতন, নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত বেতন এবং বেতন কার্যকর হওয়ার তারিখ অনুযায়ী বকেয়ার পরিমাণ কমবেশি হবে।

পে ফিক্সেশন করতে যা যা লাগবে
আইবাস প্লাস প্লাসে পে ফিক্সেশন করার আগে চাকরিজীবীদের নিজেদের চাকরিসংক্রান্ত তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখতে হবে। বিশেষ করে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর, জন্মতারিখ, বর্তমান পদবি ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে থাকা মূল বেতন, আগের বেতন নির্ধারণের তথ্য, পদোন্নতির তথ্য, বদলির তথ্য, সময় স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার তথ্য, এসব তথ্যের পক্ষে থাকা অফিস আদেশ ও প্রয়োজনীয় নথি এবং আইবাস প্লাস প্লাসে নিবন্ধিত মুঠোফোন নম্বর এই তথ্যগুলো হাতের কাছে রাখা প্রয়োজন।

তথ্য দেওয়ার সময় চাকরিজীবীদের আগের বেতন নির্ধারণের তথ্যও ভালোভাবে মিলিয়ে দেখতে হবে। কারণ নতুন বেতন নির্ধারণ শুধু বর্তমান মূল বেতনের ওপর নির্ভর করবে না; আগের চাকরির ইতিহাস ও বেতন নির্ধারণের তথ্যও এতে গুরুত্বপূর্ণ।

আইবাসে ঢুকবেন যেভাবে
পদমর্যাদা অনুযায়ী আইবাস প্লাস প্লাসে প্রবেশের পদ্ধতিও আলাদা। গেজেটেড কর্মকর্তারা নিজেদের ব্যবহারকারী পরিচয় ও গোপন সংকেত ব্যবহার করে সরাসরি ব্যবস্থায় প্রবেশ করবেন। নন-গেজেটেড কর্মচারীরা জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জন্মতারিখ ব্যবহার করে প্রবেশ করবেন।

প্রবেশের সময় নিবন্ধিত মুঠোফোন নম্বরে একবার ব্যবহারযোগ্য সংকেত বা ওটিপি পাঠানো হবে। সেই সংকেত দিয়ে প্রবেশের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

প্রবাসে থাকা চাকরিজীবীদের নিবন্ধিত ই-মেইল ঠিকানায়ও ওটিপি পাঠানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, তাঁদের পে ফিক্সেশনের আগে এনআইডি নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

পে ফিক্সেশন করবেন যেভাবে
আইবাস প্লাস প্লাসের নির্দিষ্ট পে ফিক্সেশন অপশনে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার আগেই ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত মূল বেতনের পরিমাণ দেখা যাবে। তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করে আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর নিবন্ধিত মুঠোফোন নম্বরে স্বয়ংক্রিয় খুদে বার্তা যাবে।

এরপর দেওয়া তথ্য সংশ্লিষ্ট বেতন ও হিসাব পরিশোধ কর্মকর্তার কাছে যাচাইয়ের জন্য যাবে। নন-গেজেটেড কর্মচারীদের ক্ষেত্রে চাকরির নথি অনুযায়ী আগের চাকরি ও বেতনের তথ্যও যাচাই করা হবে।

ভুল তথ্য দিলে যা হবে
পে ফিক্সেশনের সময় কোনো তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ দিলে বেতন নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে নাম, এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ, পদবি, গ্রেড ও মূল বেতনের তথ্যে ভুল থাকলে তা সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।

পদোন্নতি, বদলি, সময় স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেডের তথ্য বাদ পড়লেও নতুন বেতন নির্ধারণের হিসাবে সমস্যা হতে পারে। তাই এসবের পক্ষে থাকা অফিস আদেশ ও নথি আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা জরুরি।

শুধু অনলাইনে তথ্য পূরণ করলেই পে ফিক্সেশন শেষ হবে না। সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় অনলাইনে দেওয়া তথ্য ও চাকরির নথি যাচাই করবে। তথ্যের সঙ্গে নথির অসংগতি পাওয়া গেলে সংশোধন করতে হতে পারে। তথ্য দিতে কোনো সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সহায়তা নেওয়া যাবে।

হিসাবরক্ষণ কার্যালয় দেবে চূড়ান্ত অনুমোদন
চাকরিজীবী অনলাইনে তথ্য দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় তা যাচাই করবে। তথ্য সঠিক থাকলে অনলাইনে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।

অনুমোদনের পর আইবাস প্লাস প্লাস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি বিশেষ যাচাই নম্বর তৈরি হবে। ফলে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার আলাদা হাতে লেখা বা প্রচলিত স্বাক্ষরের প্রয়োজন হবে না।

অনলাইন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর চাকরির নথিতে যাচাই নম্বর ও নির্ধারিত নতুন বেতন লিপিবদ্ধ করা হবে। এরপর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেখানে স্বাক্ষর করবেন।

হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ
পে ফিক্সেশন সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনলাইন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অর্থ বিভাগের ‘সেবা দেওয়া সক্ষম করতে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ কর্মসূচি’ (এসপিএফএমএস)-এর আওতায় আইবাস প্লাস প্লাস এ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।

প্রশিক্ষণে প্রধান হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তা (সিএএফও), বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক (ডিসিএ), জেলা হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তা (ডিএএফও) এবং উপজেলা হিসাব কর্মকর্তা (ইউএও) কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নিচ্ছেন।

বকেয়া হিসাব হবে যেভাবে
৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে মূল বেতন ছিল, সেটিকে ভিত্তি ধরে নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণ করা হবে।

নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেওয়া হবে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দেওয়া হবে ওই পার্থক্যের ৭০ শতাংশ। এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে পুরো নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে। নতুন কাঠামোর ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পে ফিক্সেশন চূড়ান্ত হওয়ার পর নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে বেতন বিল তৈরি হবে। একই সঙ্গে নতুন ও পুরোনো বেতনের পার্থক্য অনুযায়ী বকেয়া পাওনার হিসাবও চূড়ান্ত করা হবে। এরপর অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে প্রায় তিন মাসের বকেয়া দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

উচ্চতর গ্রেডের তথ্য দিতে হবে বিশেষভাবে
নতুন বেতনকাঠামোয় উচ্চতর গ্রেডের হিসাবেও কিছু বিধান রয়েছে। কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে আট বছর পূর্ণ করলে এবং চাকরি সন্তোষজনক হলে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর একই পদে আরও ছয় বছর চাকরি করলে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান রয়েছে। তবে আগের বেতনকাঠামোয় একই পদে দুই বা ততোধিক সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে নতুন কাঠামোয় ওই পদে আর উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।

অন্যদিকে, ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত একই পদে একটিমাত্র উচ্চতর স্কেল বা গ্রেড পাওয়া থাকলে পরবর্তী ছয় বছর পূর্তির পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান রয়েছে। এ কারণে পে ফিক্সেশনের সময় শুধু বর্তমান বেতনের তথ্য দিলেই হবে না। আগের পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড এবং বেতন নির্ধারণের ইতিহাসও সঠিকভাবে দিতে হবে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৫ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের পে ফিক্সেশনের কাজ শেষ করতে হবে। এ সময় চাকরিজীবীদের নিজেদের তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি আগের বেতন নির্ধারণ ও উচ্চতর গ্রেডসংক্রান্ত নথিও মিলিয়ে দেখতে হবে। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে পে ফিক্সেশন সম্পন্ন হলেই নতুন মূল বেতন ও বকেয়া পাওনার হিসাব নির্ভুলভাবে করা সম্ভব হবে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)