সুবর্ণভূমি ডেস্ক
মুসলিম হিসেবে যেকোনো পরিসরে (যেমন: সামাজিক দাওয়াতে) ভিন্নধর্মী মানুষের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নিজের পছন্দ সামান্য ত্যাগ করা কোনো দুর্বলতা নয়; বরং এটি হৃদয়ের বিশালতা ও মুসলিমের নৈতিক দায়িত্ব (আমানত) উল্লেখ করে প্রবাসী বাংলাদেশী লেখক ও গবেষক ফাহাম আব্দুস সালাম তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে লিখেছেন। তার লেখাটি সুবর্ণভূমির পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:
আমরা যখন বাড়িতে দাওয়াত দেই এবং অতিথিদের মধ্যে হিন্দু বন্ধু থাকে - আমরা গরুর গোশ রান্না করি না। এইটা একটা ভদ্রতা। এর মধ্যে কোনো অধিকারের প্রশ্ন নাই। ৬০ জনের মধ্যে হিন্দু আছে ২ জন। বাকি ৫৮ জন বলে না যে আমাদের গরু খাওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমাদের হিন্দু বন্ধুরা তাদের বাসায় দাওয়াত দিলে নামাজ পড়ার জায়গা করে দেয়। অনেক পরিবারে বাংলাদেশে দেখেছি জায়নামাজও আছে। ক্রিশ্চান বন্ধুরা তাদের বাড়িতে দাওয়াত দিলে টেবিলে পোর্ক দেয় না। এগুলা সমাজে ভদ্র মানুষদের রেওয়াজ যা আইন ও অধিকারের চেয়ে প্রাচীন এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
মুসলমান গরীব হতে পারে কিন্তু তার মধ্যে কেন বড়ত্ব থাকবে না - এটা আমার মাথায় আসে না। আপনি যদি মেনে নেন যে আল্লাহ এই মহাবিশ্বের মালিক এবং আপনি কিছুদিনের জন্য পৃথিবীতে আছেন - তাহলে একটা মানুষ ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় নীচ হয় - আমার কল্পনার বাইরে। ঠিক কীভাবে কারো পূজার সময়েই গরু খাওয়ার অধিকারের চিন্তা...মধ্যে কামড়ায় - এটা আমরা বুঝি ভাই।
বাংলাদেশে এমন কোনো বড় রাস্তা হয়তো নাই যেখানে কোনো না কোনো দোকানে গরুর গোস্ত কিনে খাওয়া যায় না। প্রতি দিন-সারা জীবন আপনি খেতে পারবেন যদি আপনার টাকা থাকে। কেউ মানা করছে না, কোনো ভয় নাই।
যেখানে হিন্দু-মুসলমান এক সাথে খায় - সেখানে গরুর মাংস না রাখাটা মুসলমানের বড়ত্ব এবং এটাই সঠিক। এই বড়ত্ব আমাদের ওপর আল্লাহ ও রসুলের আমানত। আমরা এই বড়ত্বের শিক্ষা যুগের পর যুগ বয়ে বেড়াবো। আমরা হারতে রাজি আছে কিন্তু রাজনীতির নামে এই আমানত হারিয়ে ফেলতে রাজি না।
আপনারা যারা রাজনীতি আর অধিকারের নামে সমাজে নীচতার প্রসার করতে চান - তারা আমাদের সাথে পারবেন না। আমরা মুসলমানরা কেয়ামত পর্যন্ত বেঁচে থাকবো এবং আল্লাহর রসূলের যে উদারতার মশাল সেটা কেউ না কেউ বহন করবে।
আপনারা চিরকাল হারবেন।