মাগুরা প্রতিনিধি
মাগুরায় সব সরকারি হাইস্কুলে পরীক্ষার অতিরিক্ত ফি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ গত বছরের তুলনায় এবছর অর্ধ বার্ষিকী পরীক্ষার ফি দ্বিগুণ নেওয়ায় শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এতে সাধারণ পরিবারগুলো আর্থিক চাপে পড়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
মাগুরা শহরের অন্যতম দুইটি প্রধান সরকারি হাইস্কুল যার মধ্যে রয়েছে সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় এবং মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম এবং মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মল কুমার জোয়ার্দারসহ জেলার অন্যান্য সরকারি মাধ্যমিক স্কুলে একযোগে এই অতিরিক্ত ফি আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জেলা শহরে অবস্থিত এ দুটি বিদ্যালয়ের প্রায় ২৪ শ’ শিক্ষার্থী রয়েছে। তার মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ৪০০ টাকা এবং নবম ও দশম শ্রেণির জন্য ৬০০ টাকা অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফি আদায় করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। পরীক্ষার ফি, টিফিনসহ অন্যান্য খাত যুক্ত করে মোট অর্থের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এরপর আবার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন বাবদ আরো ২৫০ টাকা নেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও টিফিনের জন্য প্রতি মাসে বেতনের সাথে আলাদা চাঁদা নেওয়া হয়। কিন্তু খাবারের মান খুব একটা ভালো হয় না বলে অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা জানান, মাঝেমধ্যেই তাদের বাসি খাবার দেওয়া হয়, যা খেয়ে ছেলেমেয়েরা অসুস্থ হয়ে পড়ে।
অভিভাবকরা জানান, বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। খরচ কমানোর জন্য আমরা সরকারি স্কুলগুলোতে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করাই।
কিন্তু সেখানেও যদি এত টাকা পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করা হয় তাহলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করানো কঠিন হয়ে যাবে। বেসরকারি স্কুলগুলোতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পরীক্ষার ফি ধরা হয়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। সে তুলনায় সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার খরচ তুলনামূলক কম হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে নানা খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কারণে আমরা উদ্বিগ্ন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল সিনিয়র সহকারী সচিব অসীম কুমার কর্মকার স্বাক্ষরিত একটি নীতিমালা জারি হয়। একই পরিপত্র অনুযায়ী ২০২৫ সালে পরীক্ষার ফি ৩০০ টাকা করে নেওয়া হলেও এবছর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ ফি আদায় করা হচ্ছে।
মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মল কুমার জোয়ারদার দাবি করেন আমরাই সবথেকে কম ফি নির্ধারণ করেছি। ঝিনাইদহ,যশোর ও অন্যান্য জেলায় ৭৫০ টাকা করে ফি নেয়া হচ্ছে সে তুলনায় আমরা শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে অনেক কম নিচ্ছি।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটা সাবজেক্ট প্রতি ৬০ টাকা করে নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত ৪০০ টাকা এবং নবম ও দশম শ্রেণীর জন্য ৬০০ টাকা নির্ধারণ করেছি।
মাগুরা সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম জানান, নবম এবং দশম শ্রেণীর অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষার ফি নেওয়া হচ্ছে ৬০০ টাকা। ষষ্ট, সপ্তম এবং অষ্টম শ্রেণির ফি নেওয়া হচ্ছে ৪০০ টাকা। পরিপত্র অনুযায়ী ৭০০ থেকে ৭২০ টাকা ফি আসে। সপ্তম এবং অষ্টম শ্রেণীর ফি ৫০০ টাকা আসে। সরকারি পরিপত্রে যা রয়েছে আমরা তার থেকে কম নিচ্ছি।

শিক্ষার্থীরা জানান, গত বছরের পরীক্ষার সময় ৩০০ টাকা ফি দেওয়া হলেও এবছর ফি দিতে হচ্ছে দ্বিগুণ অর্থাৎ ৬০০ টাকা। কিন্তু কি কারনে পরীক্ষার ফি বাবদ অতিরিক্ত টাকা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিচ্ছে সে বিষয়ে আমরা জানিনা।
মাগুরার ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা অফিসার প্রদ্যুৎ কুমার দাস মোবাইল ফোনে জানান, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফি নেওয়া হচ্ছে পরিপত্র অনুযায়ী এটি সর্বোচ্চ ধাপ। তবে আর্থিক দিক বিবেচনা করে চাইলে এর থেকে কমও নেয়া যেতে পারে।
মাগুরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাতশ্বাত শীল জানান, গতবছরের তুলনায় এবছর অতিরিক্ত পরীক্ষার ফি নেয়ার অভিযোগে জেলা সদরের দুটি সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ডেকে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। সরকারি পরিপত্রের বাইরে পরীক্ষার ফি আদায় করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে পরীক্ষার ফি নির্ধারণ এবং এ বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরী, অন্যথায় অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।