তসলিম শিমুল
একটি স্টেডিয়াম। দুটি সময়। দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন গল্প। একটিতে হতাশা, অন্যটিতে ইতিহাস গড়ার সম্ভাবনা।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম। এই মাঠের নাম উচ্চারিত হলেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে ভেসে ওঠে ২০১৬ সালের সেই হৃদয়ভাঙা রাত। কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে টাইব্রেকারে হারের পর অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল ফুটবল বিশ্ব। মনে হয়েছিল, আর্জেন্টিনার জার্সিতে বোধহয় আর কখনও দেখা যাবে না সময়ের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারকে।
কিন্তু ফুটবলের গল্প কখনও সরলরেখায় এগোয় না।
দেশের মানুষের ভালোবাসা, সতীর্থদের অনুরোধ এবং নিজের অসমাপ্ত স্বপ্নের টানে অবসরের সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসেন মেসি। এরপর বদলে যায় সবকিছু। ২০২১ সালে আর্জেন্টিনাকে এনে দেন ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটানো কোপা আমেরিকার শিরোপা। ২০২২ সালে জেতেন ফিনালিসিমা। একই বছরের কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করে পূর্ণ করেন নিজের এবং কোটি কোটি সমর্থকের আজীবনের স্বপ্ন।
আর এবার ভাগ্য যেন আবারও তাকে ফিরিয়ে এনেছে সেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল হবে এই একই মাঠে। অর্থাৎ, যে ভেন্যু একদিন মেসির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেদনাদায়ক মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছিল, সেই মাঠই এবার হতে পারে তার আরেকটি বিশ্বজয়ের মঞ্চ।
ফুটবলে এমন প্রতীকী মিল খুব কমই দেখা যায়। যে মাঠে একদিন একজন কিংবদন্তি ভেঙে পড়েছিলেন, ঠিক সেই মাঠেই হয়তো তিনি আরেকটি বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার সুযোগ পাবেন। যদি আর্জেন্টিনা ফাইনালে জয় পায়, তাহলে মেটলাইফ স্টেডিয়াম ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়ের অংশ হয়ে থাকবে- একই মঞ্চে হতাশার সমাপ্তি এবং গৌরবের পূর্ণতা।
৩৯ বছর বয়সী মেসির সামনে এটি হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ ফাইনাল। তার ক্যারিয়ারের প্রায় প্রতিটি বড় স্বপ্নই ইতোমধ্যে পূরণ হয়েছে। তবু ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে আরেকটি বিশ্বকাপ জয় শুধু একটি ট্রফি হবে না; এটি হবে ২০১৬ সালের ভাঙা স্বপ্নের ওপর দাঁড়িয়ে লেখা এক অনন্য প্রত্যাবর্তনের গল্প।
এখন পুরো ফুটবল বিশ্বের চোখ মেটলাইফ স্টেডিয়ামের দিকে। নয় বছর আগে যেখানে শেষের ঘোষণা শোনা গিয়েছিল, সেখান থেকেই কি শুরু হবে আরেকটি অমর ইতিহাস?
উত্তর মিলবে বিশ্বকাপ ফাইনালের ৯০ মিনিট অথবা তারও বেশি সময়ের লড়াই শেষে।