মেহেরপুর প্রতিনিধি
'স্বৈরাচারের দোসর' হয়ে এখনো কিছু পুলিশ সদস্য পুরনো আচরণ থেকে বের হতে পারেনি—এমন অভিযোগ তুলে তাদের 'মানুষ হওয়ার' পরামর্শ দিয়েছেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা কলেজ ও মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নেতারা।
একই সঙ্গে শিক্ষক নেতারা বলেছেন, যে সব পুলিশ সদস্য ‘মিথ্যা মামলায়’ শিক্ষকদের চোর-ডাকাতের মতো গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পরান, তারা যেন নিজেদের সন্তানদের কোনো শিক্ষকের কাছে পড়াশোনা করতে না পাঠান। কাজিপুর ডিগ্রি কলেজের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত পুলিশের এক এসআইকে শাস্তির আওতায় আনারও দাবি জানান তারা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার আগে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শিক্ষক নেতারা এসব কথা বলেন।
স্মারকলিপিতে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—কাজিপুর ডিগ্রি কলেজের দুই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে পরীক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে অংশগ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিত করা, পরীক্ষাকেন্দ্রে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা—ইউএনও, ট্যাগ অফিসার ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানের অনুমতি ছাড়া বহিরাগত সাংবাদিকদের পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ বন্ধে প্রশাসনিক নির্দেশনা জারি এবং শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি গাংনী উপজেলা শাখার সভাপতি বেদারুল ইসলাম, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি সৈয়দ জাকির হোসেন, কারিগরি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও গাংনী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ স্বপন, গাংনী উপজেলা শাখার সভাপতি জামাল হোসেন, গাংনী পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, সিএফএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আল হেলাল।
করমদী ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ও শিক্ষকনেতা আবু সাদাদ সায়েম পল্টুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, রাইপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান, জোতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খুরশিদা খানম, জুগিন্দা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম প্রমুখ।