কমরেড মাও সেতুং-এর ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
বিপ্লবী নেতা মাও সেতুং-এর ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে যশোরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী মঞ্চ, যশোর-এর উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচির শুরুতে মাও সেতুং-এর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন ও লাল সালাম জানানো হয়। তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খবির শিকদার এবং সঞ্চালনা করেন শিক্ষক ও লেখক শ্যামল শর্মা।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বাম নেতা শামীম বিশ্বাস এবং ছাত্র প্রতিনিধি সুমাইয়া শিকদার ইলা ও সুরাইয়া শিকদার। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আকবর আলী, শহর আলী ও শওকত হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, মাও সেতুং ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিপ্লবী নেতা। চীনের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও সমাজ পরিবর্তনের অভিজ্ঞতার মধ্যদিয়ে তিনি মার্কসবাদ-লেনিনবাদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। সাম্রাজ্যবাদ, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং জনগণের রাজনৈতিক ভূমিকা সম্পর্কে তার চিন্তা বিশ্বব্যাপী কমিউনিস্ট ও বামপন্থী আন্দোলনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
বক্তারা বলেন, আজকের বিশ্বেও সাম্রাজ্যবাদী প্রতিদ্বন্দ্বিতা, যুদ্ধ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, শ্রমের শোষণ ও সম্পদের অসম বণ্টনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের রাজনৈতিক ও গণআন্দোলন চলছে।
বাংলাদেশের বাস্তবতা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, শ্রমিক, কৃষক, নিম্নআয়ের মানুষ ও তরুণ সমাজ কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্য, আয়-বৈষম্য, ভূমি ও শ্রমের অধিকারসহ নানা সংকটের মুখোমুখী। বাংলাদেশের নিজস্ব ইতিহাস, অর্থনীতি ও সামাজিক বাস্তবতার আলোকে শোষণ, বৈষম্য ও সাম্রাজ্যবাদী প্রভাবের প্রশ্নগুলোকে বিশ্লেষণ করা জরুরি।
বক্তারা বলেন, মার্কসবাদ-লেনিনবাদ ও মাওবাদকে রাজনৈতিক আদর্শ হিসেবে ধারণ করে শোষণ, বৈষম্য ও শ্রেণিবিভাজনমুক্ত সাম্যভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগ্রাম করা দরকার।
আলোচনা সভা থেকে বাংলাদেশের সব কমিউনিস্ট, মার্কসবাদী-লেনিনবাদী, মাওবাদী ও বামপন্থী সংগঠন, কর্মী ও সমর্থকদের মতপার্থক্য ও রাজনৈতিক বিতর্ককে গণতান্ত্রিকভাবে সামনে রেখে শ্রমজীবী ও নিপীড়িত মানুষের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে এবং শ্রেণিসংগ্রামের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে গণমুখী রাজনৈতিক আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।