কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
ছবি: অভিযোগকারিদের একজন
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে মাদরাসাশিক্ষার্থীদের বলাৎকারের অভিযোগে আটক প্রধান শিক্ষক মাওলানা আবুল বাশারকে ‘ফাঁসানো হয়েছে’ বলে দাবি করেছেন তার সহকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা ও কয়েকজন অভিভাবক। তাদের দাবি, মাদরাসার সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি দেখা গেছে। তবে পুলিশ বলছে, তদন্তের পরই অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত রহস্য নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে পৌর শহরের দুধসারা দারুল কুরআন সুফ্ফা মাদরাসা থেকে প্রধানশিক্ষক মাওলানা আবুল বাশারকে আটক করে কোটচাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ।
তিনি উপজেলার হরিন্দিয়া গ্রামের আমিনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকজন অভিভাবক মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ তুলে প্রধানশিক্ষক আবুল বাশারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এ নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি মাদরাসায় গিয়ে তাকে মারধর করে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
খবর পেয়ে কোটচাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে আটক দেখানো হয়।
এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান গণমাধ্যমকে জানান, একজন শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে স্থানীয়রা ওই শিক্ষককে আটকে রেখেছেন—এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখান থেকে তাকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে ঘটনার পর মাদরাসার একটি সিসিটিভি ফুটেজকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে দাবি করেছেন মাদরাসার শিক্ষক, স্থানীয় বাসিন্দা ও কয়েকজন অভিভাবক।
তারা বলছেন, প্রধানশিক্ষক নয়, বরং মাদরাসার দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে অনৈতিক আচরণের দৃশ্য ওই ফুটেজে দেখা গেছে। তাদের অভিযোগ, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে প্রধান শিক্ষককে দায়ী করা হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষককে আটকের পর মাদরাসা এলাকার সাধারণ নারী-পুরুষ ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মাদরাসার শিক্ষক মুফতি ইব্রাহিম বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে এই মাদরাসায় আছি। হুজুরের মতো এমন একজন মানুষ এমন জঘন্য কাজ করতেই পারেন না। তাকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হয়েছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ বা অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।