সুবর্ণভূমি ডেস্ক
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়; এটি দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত সংগ্রামের ফল। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
খাগড়াছড়িতে ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ পালন উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দিবসটির তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার জমানায় যে কয়েকটি ঘটনা বাংলাদেশের মানুষের মনোবেদনার কারণ হয়েছে; তার পুনরাবৃত্তি বাংলাদেশের মানুষ দেখতে চায় না এবং এটা নিশ্চিত করবার দায়িত্ব সকল রাজনৈতিক শক্তির।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকির দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই তিনি গত এক সপ্তাহ ধরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ করছেন। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি খাগড়াছড়ি সফর করছেন। প্রতিকূল যাতায়াত পরিস্থিতির মধ্যেও সময়মতো অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন তিনি।
জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে অনিন্দ্য ইসলাম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘদিনের স্বৈরাচার, গণতন্ত্রহীনতা, দমন-পীড়ন, গুম, খুন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে মানুষের জমে থাকা ক্ষোভই এক সময় গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞা।
আরো উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খান, সিভিল সার্জন ডা. রতন খীসা, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রবীণচন্দ্র চাকমা, সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার, জেলা যুবদলের সভাপতি মাহাবুব আলম সবুজ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা কাওছার আজিজী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) খাগড়াছড়ি জেলা শাখার আহ্বায়ক মো. নুরুল আলম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুল মান্নান প্রমুখ।
দুর্গম এলাকায় প্রতিমন্ত্রী
সাম্প্রতিক বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত খাগড়াছড়ির দুর্গম উপজেলা দীঘিনালার কবাখালী ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার ২০০ মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলের বন্যা দুর্গতদের উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের সমন্বয়ক ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
প্রতিমন্ত্রী পরে হাচিনসপুর হয়ে মোটরসাইকেলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত তারাবুনিয়া এলাকার বিস্তৃত ধানক্ষেত এলাকা পরিদর্শনে যান এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঘুরে দাঁড়াতে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। দুপুরে খাগড়াছড়ি পৌর এলাকার মুসলিমপাড়ায় ত্রাণ বিতরণ শেষে চেঙ্গী নদী পরিদর্শন করেন। এই নদীর পানিতে প্লাবিত হয় খাগড়াছড়ির মুসলিম পাড়াসহ আশেপাশের এলাকা।