স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
বেনাপোল স্থলবন্দরে আমদানিকৃত মালামালের আড়ালে আনা ঘোষণাবহির্ভূত পণ্যের ল্যাব পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে তিন হাজার ৬৭৫ কেজি সিলডেনাফিল সাইট্রেট; যা দিয়ে যৌন উত্তেজক ওষুধ তৈরি করা হয়। ভারতে এই রাসায়নিক ব্যবহার করে সুহাগ্রা, ম্যানফোর্স ও পেনিগ্রার মতো ওষুধ তৈরি করা হয়; যা আমেরিকান কোম্পানি ফাইজারের তৈরি করা ভায়াগ্রার স্থানীয় বিকল্প।
বিপুল পরিমাণ সিলডেনাফিল সাইট্রেট থাকায় বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট শেডগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অনুরোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, আটক তিন হাজার ৬৭৫ কেজি সিলডেনাফিল সাইট্রেটের চালানটি বন্দরের ৩২ নম্বর পণ্যাগারের শেডে রাখা হয়েছে। গত ১ জুলাই বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে অবৈধভাবে পণ্য সরিয়ে নেওয়ার শঙ্কার কথা জানিয়ে নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন জানান, কাস্টমসের চিঠি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পণ্যাগারগুলোতে সর্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে আনসার, বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান আল-আরাফা এবং গোয়েন্দা সদস্যরা সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ৩৪ নম্বর শেডেও যৌন উত্তেজক ওষুধ তৈরির রাসায়নিক সন্দেহে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা আরেকটি চালানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করার কাজ চলমান রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত ১৫ মার্চ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আরাফাত এন্টারপ্রাইজ কোয়ার্টজ পাউডার ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে ১৬ টন পণ্য আমদানি করে। চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিলেন হায়দার অ্যান্ড সন্স নামে একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান। তবে সন্দেহের ভিত্তিতে ল্যাব পরীক্ষায় ওই চালানে ১৩ ধরনের রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়, যার মধ্যে তিন হাজার ৬৭৫ কেজি সিলডেনাফিল সাইট্রেট ছিল।
এরও আগে ২০১৯ সালের ২৬ মে বায়েজিদ এন্টারপ্রাইজ সোডিয়াম গ্লাইকুলেট ঘোষণা দিয়ে ১০০ ড্রামে দুই হাজার ৭০০ কেজি পাউডার জাতীয় রাসায়নিক আমদানি করে। শাইনিং শিপিং সার্ভিসেস-এর ছাড় করার কথা থাকা ওই চালানটিও পরীক্ষায় সিলডেনাফিল সাইট্রেট হিসেবে শনাক্ত হয়। সেটি এখনো বন্দরের ৩৪ নম্বর শেডে রাখা রয়েছে।
বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের পণ্য দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে লাখো তরুণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি সহযোগীদেরও চিহ্নিত করতে হবে।’
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে সাধারণ ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ কারণে অনেকেই বেনাপোল বন্দর দিয়ে ব্যবসা কমিয়ে দিয়েছেন, অনেকে একেবারে বন্ধ করে দিয়েছেন।
বন্দর ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, প্রভাব ও অসাধু যোগসাজশের মাধ্যমে বন্দর ও কাস্টমসের পণ্যাগার থেকে প্রায়ই বিভিন্ন পণ্য পাচার হয়ে আসছে। গত মাসে প্রায় ১৫ কোটি টাকার আমদানি পণ্য পাচারের অভিযোগে কাস্টমস, বন্দর, নিরাপত্তাকর্মী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারকসহ ৫৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এরপর থেকেই বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আধুনিক ডিজিটাল স্ক্যানিং মেশিন থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে মাদক ও নিষিদ্ধ পণ্য আমদানি হওয়ায় শঙ্কা বাড়ছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গেল প্রায় সাত মাস ধরে বেনাপোল স্থলবন্দরের ল্যাব বন্ধ রয়েছে। ফলে এখন রাসায়নিক দ্রব্য পরীক্ষার জন্য খুলনার বিএসটিআই-এর শরণাপন্ন হতে হয়। আলোচ্য পরীক্ষাটিও খুলনা বিএসটিআই থেকে করা হয়েছে।