সুবর্ণভূমি ডেস্ক
আওয়ামী লীগ ছাড়া সনাতনিদের পূজা ভালো হয় না- একথা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। পূজার সময় লীগের নেতাকর্মীরা গ্যাঞ্জাম লাগাইয়া হিন্দুদের ভয় দেখানো হইত, যে আওয়ামী লীগ ছাড়া হিন্দুদের কেউ রক্ষা করতে পারবে না। এভাবে নিজের ফেসবুকে লিখেছেন ফ্রিল্যান্স ট্রান্সলেটর সাদিকুর রহমান খান। সুবর্ণভূমির পাঠকদের জন্য তার স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো:
প্রথম কোলকাতা প্রশ্ন করেছে, নতুন সরকারের অধীনে কেমন হলো বাংলাদেশের প্রথম দুর্গাপূজা?
প্রায় চার হাজার হিন্দু ধর্মের মানুষ কমেন্টে বলেছেন, স্বাধীনতার পর এত সুন্দর পূজা তাঁরা আর দেখেননি।
৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় পরাজয় হলো, আজ।
আওয়ামী লীগ বিহীন বাংলাদেশে সবচেয়ে শান্তিময় পূজা প্রমাণ করে দিল, আসলে হিন্দুদের শত্রু কারা ছিল?
প্রতি বছর পূজা আসলেই নানান গ্যাঞ্জাম লাগাইয়া হিন্দুদের ভয় দেখানো হইত, যে আওয়ামী লীগ ছাড়া হিন্দুদের কেউ রক্ষা করতে পারবে না।
এবারের পূজায় বাংলাদেশের মানুষ প্রমাণ করে দিল, আওয়ামী লীগই আসলে ছিল হিন্দুদের জন্য সবচেয়ে বড় থ্রেট।
না, সবকিছু সমাধান হয়নি।
এখনও দেবী দুর্গাকে নিয়ে আজেবাজে কমেন্ট চলতেসে, পূজা নিয়ে অনলাইনে হেইট্রেডও বন্ধ হইছে বলা যাবে না।
বাট, এই অনলাইনে বিদ্বেষটাকে যে কেউ অফলাইনে নিয়ে যাওয়ার সাহস করতে পারল না, এই কৃতিত্ব সরকারের।
আর এই আনন্দটা আমাদের সবার।
পরাজয়টা শুধু আওয়ামী লীগের আর যারা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার আগুনে আলু পোড়া খাইতে চাইছিল তাদের।
এই আনন্দ মুসলমানেরও। এই আনন্দ হিদুরও। খ্রিষ্টান বা বৌদ্ধেরও।
জুলাইতে আবু সাঈদের পাশে দাঁড়িয়ে হৃদয় তাড়ুয়া প্রাণ দিয়েছিল হাসিনার অত্যাচারের বিরুদ্ধে।
এই বাংলাদেশ শহীদ আনাসের আর শহীদ রিয়া গোপের বাংলাদেশ।
৭১ এর মতোই, ২৪ এর স্বাধীনতাতেও একজন হিন্দু, একজন মুসলিম বৌদ্ধ বা খ্রিস্টানের সমান অধিকার আছে।
এই বাংলাদেশে তাই যতবার সুন্দর করে ঈদ হবে, আমরা জিতে যাব।
এই বাংলাদেশে তাই যত রঙিন করে পূজার উৎসব হবে, আমরা জিতে যাব।
হাসিনা ঠিক যে যে জায়গাতে ঘৃণা রেখে গেছিল,
আমরা সেই সেই জায়গাগুলো ভালোবাসার প্রলেপ দিয়ে সাজিয়ে দেব,
নিশ্চয়ই আমাদের ভবিষ্যৎ, আমাদের অতীতের চেয়ে ভালো হবে।
যদি আমরা ভালোবাসা নিয়ে খোদার বান্দাদের পাশে দাঁড়াই, খোদা আমাদের পাশে থাকবেন, তারচেয়েও বেশি ভালোবাসা নিয়ে।