যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

কুরাসাওকে ৭ গোলে উড়িয়ে জার্মানির ‘সেই স্মৃতি’র পুনরাবৃত্তি

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : সোমবার, ১৫ জুন,২০২৬, ০৯:১০ এ এম
কুরাসাওকে ৭ গোলে উড়িয়ে জার্মানির ‘সেই স্মৃতি’র পুনরাবৃত্তি

বিশ্বকাপের মঞ্চে যখন নবাগত কুরাসাও গোল শোধ করে ম্যাচে সমতা আনল, তখনই গ্যালারির দর্শকরা নড়েচড়ে বসলেন। মনে জাগছিল নতুন কোনো অঘটনের আভাস। তবে এর পর মাঠে যা ঘটল, তা ফুটবল পরাশক্তি জার্মানির জন্য চিরচেনা এক দৃশ্য।

গতিময় ‘জার্মান মেশিনের’ সামনে স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়ে গেল প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে আসা কুরাসাও। এই আসরে দর্শকদের প্রথম বড় গোলের উৎসব উপহার দিয়ে ৭-১ ব্যবধানের বিশাল জয় তুলে নিল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

জার্মানির হয়ে জোড়া গোল করেন কাই হাভার্টজ। এছাড়া একটি করে গোল করেন ফেলিক্স এনমেচা, নিকো শ্লোটারবেক, জামাল মুসিয়ালা, নাথানিয়েল ব্রাউন ও ডেনিজ উনদাভ। কুরাসাওয়ের পক্ষে একমাত্র সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন লিয়ান্দ্রো কোমেনেনসিয়া।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে জার্মানি। মাত্র পঞ্চম মিনিটেই লিড নেয় তারা। ফ্লোরিয়ান ভির্টজের নিখুঁত পাস থেকে বক্সের ভেতর বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান ফেলিক্স এনমেচা। শুরুর গোলের পরও জার্মানি আক্রমণ অব্যাহত রাখে।

তবে ম্যাচের ২০তম মিনিটে সবাইকে চমকে দেয় কুরাসাও। বক্সের বাইরে থেকে লিয়ান্দ্রো কোমেনেনসিয়ার একটি শট জার্মান ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ারকে পরাস্ত করে। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম গোলের দেখা পায় কুরাসাও।

সমতায় ফিরে ম্যাচ কিছুটা জমে উঠলেও দ্রুতই খেলা নিয়ন্ত্রণে নেয় জার্মানি। বিশেষ করে জোশুয়া কিমিখের কর্নারগুলো কুরাসাও ডিফেন্সের জন্য বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়ায়। এরই ধারাবাহিকতায় ম্যাচের ৩৬ মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে দারুণ হেডে জার্মানিকে আবারও এগিয়ে নেন নিকো শ্লোটারবেক।

প্রথমার্ধের শেষভাগে ম্যাচের উত্তেজনা আরও বাড়ে। জামাল মুসিয়ালা ও ফেলিক্স এনমেচারা বারবার কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগ ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। এর মাঝেই লেরয় সানের একটি নিশ্চিত শট কুরাসাও গোলরক্ষক রুম দুর্দান্তভাবে রুখে দেন।

পাভলোভিচের একটি গোলমুখী শটও গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করে বিরতিতে যাওয়ার চেষ্টা করছিল কুরাসাও। কিন্তু প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে বক্সে এনমেচাকে ফাউল করেন কুরাসাওয়ের ডিফেন্ডার বাযোর। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজালে স্পট কিক থেকে কাই হাভার্টজ ঠান্ডা মাথায় গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন।

বিরতি থেকে ফিরেই আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয় জার্মানি। দ্বিতীয় অর্দ্ধের প্রথম মিনিটেই (৪৬ মিনিট) জোশুয়া কিমিখের চমৎকার এক থ্রু পাস ধরে বক্সে ঢুকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ৪-১ করেন জামাল মুসিয়ালা।

ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করে জার্মানিকে আরও এগিয়ে নেন তরুণ ডিফেন্ডার নাথানিয়েল ব্রাউন। এরপর ৭৬তম মিনিটে আবারও জোশুয়া কিমিখের অ্যাসিস্ট থেকে বল পেয়ে গোল উৎসবে মাতেন বদলি স্ট্রাইকার ডেনিজ উনদাভ।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে (৮৭ মিনিটে) কুরাসাওয়ের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন কাই হাভার্টজ। নিজের দ্বিতীয় গোলে দলের ৭-১ ব্যবধানের বিশাল জয় নিশ্চিত করেন এই ফরোয়ার্ড।

ফুটবল বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি জার্মানির এই বিধ্বংসী রূপ ভক্তদের মনে করিয়ে দিয়েছে ২০১৪ বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক ‘৭-১’ গোলের স্মৃতি। নবাগত কুরাসাওকে হারিয়ে আবারও সেই চেনা দাপট দেখাল জার্মানরা।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)