ফুটবল মাঠে তারা প্রতিপক্ষ। একে-অপরকে হারিয়ে পরের রাউন্ডে যেতে চায়। কিন্তু মাঠের বাইরে মেক্সিকো আর দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্কটা একদম উলটো। এখানে যুদ্ধ নেই, আছে ভালোবাসার উৎসব।
২০২৬ বিশ্বকাপের ‘এ’ গ্রুপে মুখোমুখি হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া ও আয়োজক মেক্সিকো। ম্যাচে জিতে মেক্সিকো পরের রাউন্ডে গেলেও গ্যালারিতে বা স্টেডিয়ামের বাইরে শত্রুতা তো দূরের কথা, বরং কোরিয়ান যুবকদের মাথায় তুলে নাচছে মেক্সিকানরা।
চুমু আর ‘পেপেরো খেলা’ ভাইরাল
মেক্সিকোর রাস্তায় এখন অন্যরকম অতিথি আপ্যায়ন চলছে। কোরিয়ান যুবক দেখলেই মেক্সিকোর তরুণীরা জড়িয়ে ধরে চুমু খাচ্ছেন। বিনামূল্যে মদ খাওয়ানো হচ্ছে। ক্যামেরার সামনেই এক কোরিয়ান সাংবাদিককে জাপটে ধরে চুমু খান এক মেক্সিকান তরুণী। ভিডিওটি নেট দুনিয়ায় ঝড় তুলেছে।
এর সাথে যুক্ত হয়েছে ‘পেপেরো খেলা’। দক্ষিণ কোরিয়ায় জনপ্রিয় এই খেলায় চকলেটের কাঠি দুজন মিলে খেতে হয়। মেক্সিকোয় খেলার শেষ অংশটুকু হচ্ছে ঠোঁটে ঠোঁট রেখে চুমু। গুয়াদালজারায় এরকম একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ‘ভালোবাসার যুদ্ধ’ শব্দটাই ট্রেন্ড হয়ে গেছে।
ভালোবাসার শিকড় অনেক গভীরে
মেক্সিকানরা এমনিতেই বন্ধুবৎসল। তার উপর দক্ষিণ কোরিয়ার ‘কে-প’ আর ‘কে-ড্রামা’ মেক্সিকোর তরুণ-তরুণীদের মাতিয়ে রেখেছে। স্লোগান উঠছে, ‘কোরিয়ানরা আমাদের ভাই, তোমরাও এখন মেক্সিকান’।
কিন্তু এর পেছনে আছে ইতিহাস। ১৯০৫ সালে ১০-এর বেশি কোরিয়ান পরিযায়ী শ্রমিক মেক্সিকোর দক্ষিণে এসে থেকে যান। পরে তারা মেক্সিকো সিটি ও তিজুয়ানায় ছড়িয়ে পড়েন। গত শতাব্দীর নয়ের দশকে আসেন আরও ২০ হাজার কোরিয়ান। এখন মেক্সিকো সিটিতে ‘ছোট সিওল’ নামে এলাকাই আছে।
২০১৮-এর ঋণ শোধ
২০১৮ বিশ্বকাপেও একই গ্রুপে ছিল দুই দল। শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে দেয়। নিজেরা বাদ পড়লেও সেই জয়ে মেক্সিকো পরের রাউন্ডে চলে যায়। সেই কথা মেক্সিকানরা আজও ভোলেনি। আট বছর পর তারই প্রতিদান দিচ্ছে তারা ভালোবাসা দিয়ে।
মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, মাঠের বাইরে ভ্রাতৃত্ব- ২০২৬ বিশ্বকাপ যেন ফুটবলের চেয়েও বড় কিছু দেখাচ্ছে।