স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
বিশ্বকাপ মানেই শেষ বল পর্যন্ত লড়াই। শেষ ম্যাচের শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত হিসাব কষে সমর্থকরা। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফা সেই রোমাঞ্চটাই কেড়ে নিয়েছে। নতুন এক নিয়মের ফাঁদে পড়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ঘরের পথ ধরতে হলো হাইতি, তুরস্ক আর তিউনিসিয়াকে।
এতদিন আমরা জানতাম, গ্রুপে পয়েন্ট সমান হলে আগে দেখা হয় গোল পার্থক্য। যে দলের গোল বেশি, সে এগিয়ে যায়। কিন্তু এবার ফিফা নিয়ম পাল্টেছে। এখন আগে দেখা হয় ‘মুখোমুখি লড়াইয়ের ফল’। কার সাথে কে জিতেছে, কার কাছে হেরেছে- সেটাই আসল। গোল পার্থক্য এখন দুই নম্বর।
আর এই নিয়ম বদলই ডেকে এনেছে তিন দলের জন্য মর্মান্তিক পরিণতি।
হাইতির কান্না
ব্রাজিলের কাছে হেরে হাইতির গল্প শেষ। শেষ ম্যাচে মরক্কোকে হারালেও, ব্রাজিল যদি স্কটল্যান্ডকে হারায় তখন হাইতি আর স্কটল্যান্ডের পয়েন্ট হবে সমান ৩। কিন্তু গ্রুপ পর্বের শুরুতে স্কটল্যান্ডের কাছে হেরেছিল হাইতি। মুখোমুখি লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকায়, শেষ ম্যাচ না খেলেই ছিটকে গেল ক্যারিবীয় দ্বীপের দলটা।
তুরস্কের আক্ষেপ
প্যারাগুয়ের কাছে হারের পর তুরস্কের হিসাব-নিকাশ সব মিটে গেছে। শেষ ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে হারালেও লাভ নেই। কারণ গ্রুপে যুক্তরাষ্ট্র আর প্যারাগুয়ে- এই দুই দলের কাছেই মুখ থুবড়ে পড়েছে তুরস্ক। হেড-টু-হেডে জায়গা না থাকায় তৃতীয় হওয়ার স্বপ্নও ধূলিসাৎ।
তিউনিসিয়ার হাহাকার
সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলে উড়ে গিয়েই তিউনিসিয়ার ভাগ্য লেখা হয়ে গেছে। শেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে দিলেও, সুইডেন হারলেও দুই দলের পয়েন্ট ৩ হবে। কিন্তু সেই ৫-১ গোলের ক্ষত এত গভীর যে মুখোমুখি লড়াইয়েই হেরে গেছে আফ্রিকার দলটা।
নতুন নিয়মটা কী দাঁড়ালো
এখন গ্রুপ পর্বের টাই ভাঙার ক্রম হলো:
১. মুখোমুখি ম্যাচের ফল
২. গোল পার্থক্য
৩. মোট গোল
৪. ফেয়ারপ্লে পয়েন্ট
৫. ফিফা র্যাঙ্কিং
মানে এখন থেকে প্রতিটি ম্যাচই ফাইনাল। একটা ভুল পাস, একটা ভুল সিদ্ধান্ত- সব শেষ করে দিতে পারে। গোল পার্থক্য বাঁচানোর জন্য ড্র করে বসে থাকার দিন ফুরিয়েছে।
ফিফা বলছে, এতে নাটকীয়তা বাড়বে। কিন্তু হাইতি, তুরস্ক, তিউনিসিয়ার সমর্থকরা বলবে, স্বপ্নটা বড্ড তাড়াতাড়ি ভেঙে গেল।
বিশ্বকাপ শেখায়, এখানে দ্বিতীয় সুযোগ বলে কিছু নেই। ২০২৬ সেটা আরো কড়াভাবে বুঝিয়ে দিলো।