স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত একটিও গোল হজম করেনি মাত্র একটি দল- স্পেন। আক্রমণভাগের দুর্দান্ত ফুটবল নিয়ে যত আলোচনা হচ্ছে, তার আড়ালেই নীরবে ইতিহাস লিখে চলেছেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমন।
২০২২ ও ২০২৬- দুই বিশ্বকাপ মিলিয়ে টানা ৬০৯ মিনিট প্রতিপক্ষকে গোলের দেখা না দিয়ে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ওয়াল্টার জেঙ্গার ১৯৯০ বিশ্বকাপে গড়া টানা ৫১৭ মিনিট গোল না খাওয়ার ৩৬ বছর পুরনো রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন সিমন। শুধু তাই নয়, তার অসাধারণ গোলকিপিংয়েই বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা ছয়টি ম্যাচে ক্লিন শিট ধরে রাখার কীর্তি গড়েছে স্পেন।
তবে অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, উনাই সিমনের এই বিশ্বমঞ্চে আসার কাহিনি একেবারেই অন্যরকম। এমনও হতে পারতো, আজকের এই ইতিহাসের অংশই হতেন না তিনি।
২০১৮ সালে নতুন মৌসুম শুরুর আগে অ্যাথলেটিক বিলবাও তাকে ধারে পাঠিয়ে দিয়েছিল এলচে ক্লাবে। মনে হচ্ছিল, আপাতত মূল দলের বাইরে থেকেই ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে হবে। কিন্তু মাত্র ১৯ দিনের ব্যবধানে নাটকীয়ভাবে বদলে যায় সবকিছু।
অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক কেপা আরিজাবালাগা হঠাৎ করেই চেলসিতে যোগ দেন। একই সময়ে আরেক গোলরক্ষক চোটে পড়ায় গোলকিপার সংকটে পড়ে যায় ক্লাবটি। বাধ্য হয়েই জরুরি ভিত্তিতে ফিরিয়ে আনা হয় উনাই সিমনকে।
সেই অপ্রত্যাশিত সুযোগটিকেই নিজের জীবনের মোড় ঘোরানোর মুহূর্তে পরিণত করেন তিনি। অভিষেকের পর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অল্প সময়ের মধ্যেই অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের অবিসংবাদিত এক নম্বর গোলরক্ষক হয়ে ওঠেন সিমন। এরপর থেকে ক্লাবের গোলবারের দায়িত্ব তার হাতেই।
ফুটবল বারবার প্রমাণ করেছে সুযোগ কখন, কোথায় এবং কীভাবে এসে জীবনের গতিপথ বদলে দেয়, তা আগে থেকে কেউ জানে না। উনাই সিমনের কাহিনিও সেই সত্যেরই উজ্জ্বল উদাহরণ।
মাঠের বাইরের জীবনেও তিনি অন্যদের চেয়ে আলাদা। বর্তমান সময়ের তারকাদের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। ব্যক্তিগত মানসিক শান্তি বজায় রাখতে এবং প্রশংসা-সমালোচনার প্রভাব থেকে দূরে থাকতে তিনি নিজের সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছেন।
শুধু তাই নয়, নিজের পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনকে সবসময় প্রচারের আলো থেকে দূরে রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এই স্প্যানিশ গোলরক্ষক। তার জীবনের সবচেয়ে বড় দুই অগ্রাধিকার- পরিবার ও ফুটবল।
নীরবে নিজের কাজ করে যাওয়া উনাই সিমন হয়তো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নেই, কিন্তু স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণপ্রাচীরের সবচেয়ে শক্ত ভিত্তি যে তিনিই, বিশ্বকাপের পরিসংখ্যান সেটিই স্পষ্ট করে দিচ্ছে।