তসলিম শিমুল
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে ফুটবল উন্মাদনা এখন শুধু মাঠেই সীমাবদ্ধ নেই, এর প্রভাব পড়েছে নবজাতকদের নামকরণেও। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে বিশ্বকাপ চলাকালে জন্ম নেওয়া শত শত শিশুর নাম রাখা হচ্ছে বিশ্বের জনপ্রিয় ফুটবল তারকাদের নামে। দেশটির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপে তুমুল আলোচনায় থাকা নরওয়ের তারকা আর্লিং হালান্ডের নামেই রাখা হয়েছে ৪৬৮ নবজাতকের নাম।
পেরুর শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘পেরু ২১’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ‘হালান্ড’ নামেই নয়, ৯১টি শিশুর পুরো নাম রাখা হয়েছে ‘আর্লিং হালান্ড’ এবং আরও চারজনের নাম রাখা হয়েছে ‘আর্লিং ব্রাউট হালান্ড’।
তবে জনপ্রিয়তার দিক থেকে এখনও সবার ওপরে রয়েছেন ব্রাজিলের তারকা নেইমার জুনিয়র। পেরুতে তার নামে নিবন্ধিত মানুষের সংখ্যা ৩৩ হাজার ৮০৯। অন্যদিকে ‘লিওনেল মেসি’ নামটি রয়েছে তিন হাজার ৪০২ জনের, যার মধ্যে ২৯২ জনের পুরো নামই ‘লিওনেল মেসি’। পর্তুগালের কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নামে রয়েছে এক হাজার ১৮৫ জন এবং স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালের নামে নাম রাখা হয়েছে এক হাজার ২৪১ জনের।
পেরুর জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন সংস্থার মুখপাত্র ইভান তোরেস বলেন, ফুটবল তারকারা দেশটির মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক। সে কারণেই অনেক অভিভাবক নিজেদের সন্তানের নাম প্রিয় ফুটবলারের নামে রাখেন। তিনি জানান, নরওয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার পর হালান্ডের নামে নাম নিবন্ধনের সংখ্যা আরও দ্রুত বেড়ে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, লাতিন আমেরিকায় ফুটবল তারকাদের নামে সন্তানের নাম রাখার সংস্কৃতি বহুদিনের। এতদিন যেখানে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলারদের নামই বেশি দেখা যেত, এবার সেই তালিকায় জোরালোভাবে যুক্ত হয়েছে নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডের নাম। বিশ্বকাপে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স পেরুর ফুটবলপ্রেমী অভিভাবকদের মধ্যেও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।
মাঠে গোলের ঝড় তোলার পাশাপাশি এবার পেরুর হাজারো পরিবারের নবজাতকের নামেও জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্বের জনপ্রিয় ফুটবল তারকারা। বিশ্বকাপ যে কেবল একটি ক্রীড়া আসর নয়, বরং মানুষের সংস্কৃতি, আবেগ ও দৈনন্দিন জীবনেও গভীর প্রভাব ফেলে, পেরুর এই ব্যতিক্রমী নামকরণের প্রবণতা তারই একটি অনন্য উদাহরণ।