স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
ম্যাচের একটি মুহূর্তে লিওনেল মেসি ও জুড বেলিংহামের মধ্যে কথার লড়াই নজর কেড়েছে ফুটবলপ্রেমীদের। টেলিভিশন ক্যামেরায় দেখা যায়, মেসি বেলিংহামকে কিছু বোঝানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু ইংলিশ মিডফিল্ডার তাতে বিশেষ গুরুত্ব দেননি। এরপর মেসির অঙ্গভঙ্গিতে স্পষ্টই বোঝা যায়, প্রতিপক্ষের আচরণে তিনি সন্তুষ্ট নন।
এমন ঘটনা অবশ্য ফুটবলে নতুন নয়। বড় ম্যাচে মানসিক লড়াইও কৌশলের একটি অংশ। বিশেষ করে মেসির মতো অভিজ্ঞ ফুটবলার জানেন, ম্যাচের গতি কখন, কোথায় এবং কীভাবে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে হয়।
প্রথম ৭৫ মিনিটে ইংল্যান্ড ছিল সংগঠিত, আত্মবিশ্বাসী এবং আক্রমণাত্মক। জুড বেলিংহামও মাঝমাঠে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছিলেন। তার দৌড়, বল নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণ গঠনের সক্ষমতা আর্জেন্টিনাকে চাপে রেখেছিল।
কিন্তু ফুটবলে অনেক সময় একটি মুহূর্তই পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়। শেষ ২০ মিনিটে সেটিই ঘটেছে। খেলার নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিজের হাতে তুলে নেন লিওনেল মেসি। তার পাস, ড্রিবল, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আক্রমণ পরিচালনায় ইংল্যান্ডের ছন্দ ভেঙে পড়ে। যে বেলিংহাম এতক্ষণ ম্যাচের অন্যতম প্রভাবশালী ফুটবলার ছিলেন, তাকেও তখন অনেকটাই নিষ্ক্রিয় দেখায়। অভিজ্ঞতার সামনে তরুণ প্রতিভার সীমাবদ্ধতাও যেন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এটাই হয়তো বিশ্বমানের ফুটবলারদের সঙ্গে কিংবদন্তিদের পার্থক্য। একজন তারকা ম্যাচে ভালো খেলতে পারেন, কিন্তু একজন কিংবদন্তি ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন। শেষ দিকে মেসি সেটিই করে দেখিয়েছেন।
ম্যাচের আরেকটি আলোচিত মুহূর্ত ছিল মেসি ও ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনের সংক্ষিপ্ত বাকবিতণ্ডা। তবে ম্যাচ শেষে কেইন বাস্তবতাই মেনে নেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের ফাইনালে ওঠা আর বিদায় নেওয়ার মাঝখানের পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন একজনই- লিওনেল মেসি।
এই ম্যাচটি আবারও মনে করিয়ে দিলো, বয়স বাড়লেও বড় মঞ্চে মেসির প্রভাব কমেনি। বরং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের নেতৃত্ব নেওয়া, চাপের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাই তাকে অন্য সবার থেকে আলাদা করে। তরুণ বেলিংহামের জন্যও এটি হতে পারে বড় এক শিক্ষা- প্রতিভা ম্যাচ জেতাতে পারে, কিন্তু ইতিহাস লেখেন সেইসব ফুটবলার, যারা সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন।