যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

খুলনায় মসজিদের ভেতরে গুলির নেপথ্যে জ্বালানি তেল নিয়ে বিরোধ!

জিয়াউস সাদাত

, খুলনা

প্রকাশ : সোমবার, ১৫ জুন,২০২৬, ০১:৩০ এ এম
খুলনায় মসজিদের ভেতরে গুলির নেপথ্যে জ্বালানি তেল নিয়ে বিরোধ!

খুলনার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ দৌলতপুরের বিএল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। শুনশান কলেজ রোড ধরে দক্ষিণে এগোলেই রাস্তার পশ্চিম পাশে একটি ছোট জামে মসজিদ। ওজোপাডিকোর ডিভিশন ২ ও ৩ এর অফিসসংলগ্ন বিদ্যুৎ জামে মসজিদটি তাদের তত্ত্বাবধানেই পরিচালিত হয়। রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এই মসজিদের মধ্যেই দুর্বৃত্তের গুলিতে মারাত্মক আহত হন শেখ লোকমান হাকিম (৫০) ও আলম মন্ডল (৫৫)। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকার দুটি পৃথক হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা চলছে।

কাশিপুর এলাকার জ্বালানি তেল ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান। তিনি বলেন, ‘তেলের ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। সম্ভাব্য অপরাধীকে আমরা সনাক্ত করে ফেলেছি। খুব শিগগির হামলাকারীরা ধরা পড়বে ‘

রোববার সন্ধ্যায় মসজিদের ঈমাম আমানউল্লাহর সঙ্গে কথা হয় মসজিদ চত্বরেই। তিনি জানান, ফজরের নামাজ পড়ার পর ৫টা ১৪ মিনিটে তিনি বের হন। সে সময় মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি লোকমান হাকিম কোরআন শরিফ পাঠ করছিলেন। বারান্দায় আলম মন্ডল জিকির করছিলেন। ওই দুজন ছাড়া অন্য মুসল্লিরা নামাজের পর মসজিদ ত্যাগ করেন।

স্থানীয়রা জানান, সাড়ে ৫টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে দুজন অস্ত্রধারী এসে মসজিদে প্রবেশ করেই লোকমানকে গুলি করা শুরু করে। মোট পাঁচ রাউন্ড গুলি করলে চারটি গুলি তার শরীরে বিদ্ধ হয়। তার মাথায়, বুকে ও হাতে গুলিবিদ্ধ হয়। বারান্দায় থাকা আলম মন্ডল ভয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করলে অস্ত্রধারীরা তাকেও গুলি করে। তার গলায়, হাতে ও বুকে গুলিবিদ্ধ হয়।

রক্তাক্ত অবস্থায় দুজন মসজিদের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। পরে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় লোকমান হাকিম ফোনে স্বজনদের বিষয়টি জানান বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। লোকমান হাকিমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

রোববার রাতে কাশিপুর যমুনা রোডের ‘নুর মঞ্জিল’ নামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, লোকমানের পরিবারের নারী সদস্যরা উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় রয়েছেন। তারা এ ব্যাপারে লোকমানের ভাই প্রফেসর জহিরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

কলেজ রোডের আলম মন্ডলের বাড়ির সামনে কথা হয় তার ছেলে জাকারিয়ার সঙ্গে। মাদরাসাপড়ুয়া জাকারিয়া জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আলম মন্ডল দৌড়ে বাড়ি আসেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। দুপুরে তাকে খুলনা থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তার গলা দিয়ে গুলি ঢুকে মুখের এক পাশ দিয়ে বের হয়ে গেছে। অপর গুলিটি ডান হাত ভেদ করে বুকে ফুসফুসের কাছে আটকে যায়। রাতে অপারেশনের মাধ্যমে গুলি বের করা হয়েছে।

আলম মন্ডল চিত্রালী বাজারে কাপড়ের ব্যবসা করেন। তার ভাগনে সোহেল শিপন জানান, মূলত লোকমানকে গুলি করতে আসে দুর্বৃত্তরা। কিন্ত আলম সামনে পড়ে গেলে তাকেও গুলি করা হয়।

দৌলতপুর থানার ওসি তদন্ত জাহিদুল ইসলাম জানান, যারা এ ঘটনার সাথে জড়িত তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সহকারী কমিশনার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে। হামলার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। গুলির ঘটনায় একাধিক দিক সামনে রেখে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে পুলিশ। এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। কাউকে আটকও করা যায়নি।

পুলিশের একাধিক সূত্র বলছে, ঘটনাটির পেছনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকায় চোরাই তেল কারবার-সংক্রান্ত কোনো বিরোধ বা চরমপন্থী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা আছে কি না, তাও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘গুলির ঘটনার বিষয়টি তদন্তাধীন। এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে বেশ কিছু তথ্য আমরা পেয়েছি, যা যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে চারটি গুলির খোসা ও একটি অব্যবহৃত গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।’

একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রোববার ভোর ৫টা ২৭ মিনিটের দিকে মসজিদের সামনে দিয়ে লাল রঙের একটি মোটরসাইকেলে দুই ব্যক্তিকে যেতে দেখা যায়। তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থলের একেবারে কাছের সিসিটিভি ফুটেজ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে আশপাশের ফুটেজে মোটরসাইকেলে দুই ব্যক্তিকে এবং অন্য একটি ফুটেজে আরও একজনকে রেকি করতে দেখা গেছে। আরও ফুটেজ বিশ্লেষণের কাজ চলছে।

খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায় জানান, ঘটনার তদন্তে কয়েকটি টিম কাজ করছে। তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পাশাপাশি কিছু ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

সুদর্শন কুমার আরও বলেন, গুলিবিদ্ধ লোকমান হাকিম তেলের ডিপোর একটি কোম্পানির এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। একই সঙ্গে তিনি ওজোপাডিকোর ঠিকাদারও ছিলেন। ব্যবসায়িক কিংবা পারিবারিক কোনো বিরোধ ছিল কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। তার কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী তিনি একজন ব্যবসায়ী।

খুলনা মহানগর পুলিশের দৌলতপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। হামলার কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)