সরোয়ার হোসেন
যশোরের রাজনীতির ইতিহাসে কিছু ব্যক্তি কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি; সময়ের পরিক্রমায় তারা হয়ে ওঠেন জনপদের ইতিহাস, উন্নয়ন ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। তরিকুল ইসলাম তেমনই একজন। রাজনীতিই ছিল তার ধ্যান-জ্ঞান, রাজনীতিই ছিল তার জীবনচর্চা। ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় নেতৃত্ব, রাজপথের আন্দোলন থেকে মন্ত্রিপরিষদ, কারাগারের নির্যাতন থেকে জনমানুষের ভালোবাসা—জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে তিনি ছিলেন রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত।
নন্দিত এই রাজনীতিকের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী ৪ নভেম্বর। ২০১৮ সালের এই দিনে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুর আট বছর পরও যশোরের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তার নাম উচ্চারিত হয় গুরুত্ব ও শ্রদ্ধার সঙ্গে। বিশেষ করে যশোরের উন্নয়নে অবদান তাকে স্থানীয় মানুষের স্মৃতিতে স্বতন্ত্র অবস্থান দিয়েছে। তিনি স্মরণীয় হন যশোরের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান রূপকার হিসেবে।
আপাদমস্তক রাজনীতিক তরিকুল ইসলাম জীবনে নানা প্রতিকূলতা, অত্যাচার, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু কোনো পরিস্থিতিতেই পথ হারাননি তিনি। এ কারণে যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজনীতিতে তিনি ‘লৌহমানব’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। রাজনৈতিক অবস্থান ও নেতৃত্বের দৃঢ়তার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার ছিল গভীর যোগাযোগ। ছাত্র সংসদের নেতৃত্ব থেকে শুরু করে দেশের মন্ত্রিপরিষদ পর্যন্ত পৌঁছানোর পেছনে এই জনসম্পৃক্ততা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলের সর্বোচ্চ ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। দায়িত্ব পালন করেছেন যশোর পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যান হিসেবেও।
রাজনীতির বাইরেও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তরিকুল ইসলাম। যশোরের বহু প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ও বিকাশে তার ভূমিকা ছিল।
তরিকুল ইসলামের জন্ম ১৯৪৬ সালের ১৬ নভেম্বর যশোর শহরে। বাবা আব্দুল আজিজ ছিলেন ব্যবসায়ী, মা মোসাম্মৎ নুরজাহান বেগম গৃহিণী। পরিবারের বড় ছেলে শান্তনু ইসলাম সুমিত ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে তিনি পিতা প্রতিষ্ঠিত দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকার প্রকাশকের দায়িত্ব পালন করছেন। ছোট ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বাবার পথ অনুসরণ করে হয়েছেন রাজনীতিক। তিনি যশোর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকও।
তরিকুল ইসলামের স্ত্রী নার্গিস বেগম ছিলেন যশোর সরকারি সিটি কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ও সাবেক উপাধ্যক্ষ। যশোরের রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরে একটি কথা প্রচলিত—তরিকুল ইসলামের রাজনৈতিক দৃঢ় অবস্থান গড়ার পেছনে স্ত্রী নার্গিস বেগমের অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অধ্যাপক নার্গিস বেগম বর্তমানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।
তরিকুল ইসলামের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ছাত্রাবস্থায়, যুক্ত হন তৎকালীন জনপ্রিয় ছাত্রসংগঠন ছাত্র ইউনিয়নে। ছিলেন বৃহত্তর যশোর জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি। সংগঠনটির প্রার্থী হিসেবে যশোর এমএম কলেজ ছাত্র সংসদের ১৯৬৩-৬৪ শিক্ষাবর্ষে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হন।
তিনি ১৯৬১ সালে যশোর জিলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা, ১৯৬৩ সালে যশোর এমএম কলেজ থেকে আইএ এবং ১৯৬৮ সালে অর্থনীতিতে বিএ (অনার্স) পাস করেন। পরবর্তী সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অর্থনীতিতে এমএ সম্পন্ন করেন।
১৯৬৬ সালে সর্বক্ষেত্রে রাষ্ট্রভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু হলে তিনি এর যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ‘মৌলিক গণতন্ত্র’-এর নির্বাচনে অধ্যাপক শরীফ হোসেনের নেতৃত্বে ফাতেমা জিন্নাহর পক্ষে জনমত গঠনে তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরেছেন।
শুরুতেই রাজনীতিক তরিকুল ইসলামকে মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। যশোর এমএম কলেজে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় কারাবরণ করেছেন। তৎকালীন এমএনএ আহমদ আলী সরদারের দায়ের করা ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় আটক হয়ে নয় মাস যশোর ও রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকতে হয় তাকে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন তিনি। তবে এসব দমন-পীড়ন তাকে আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি।
তরিকুল ইসলাম ১৯৭০ সালে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে (ন্যাপ) যোগ দেন। ভারতের একতরফা সিদ্ধান্তে নির্মিত ফারাক্কা বাঁধ অপসারণের দাবিতে মওলানা ভাসানীর আহ্বানে আয়োজিত ফারাক্কা অভিমুখী লংমার্চ সফল করতেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ভারতে চলে যান। মুক্তিযুদ্ধের পুরো নয় মাস সেখানে অবস্থান করে শরণার্থী এবং প্রশিক্ষণরত মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তায় নানা কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। স্বাধীনতার পর রাজনীতিতে তার অবস্থান আরও সুসংহত হয়। আওয়ামী লীগ শাসনামলে একপর্যায়ে তাকে আটক করা হয় এবং তিন মাস কারাগারে থাকতে হয়। পরবর্তী সময়ে মরহুম মশিউর রহমান যাদু মিয়ার নেতৃত্বে ন্যাপ (ভাসানী) বিলুপ্ত হলে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে দলীয় সংগঠন গড়ে তোলার কাজে আত্মনিয়োগ করেন।
১৯৭৯ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তার কর্মক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হয়। এ সময় তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এবং ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮২ সালের ৫ মার্চ তিনি সড়ক ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। কিন্তু একই বছরের ২৪ মার্চ জেনারেল এরশাদ নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ক্ষমতা গ্রহণের পর যেসব রাজনীতিককে আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তরিকুল ইসলাম ছিলেন তাদের একজন। প্রায় তিন মাস তাকে অকথ্য নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়। পরে তার বিরুদ্ধে এরশাদকে হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় প্রধান আসামি হয়ে নির্যাতন ও দীর্ঘ নয় মাস ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী থাকতে হয় তাকে।
মুক্তির পর আবারও রাজপথে সক্রিয় হন তরিকুল ইসলাম। স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে সময় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অনেকে আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে তিনি দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ছুটে বেড়িয়েছেন। কখনো একা, কখনো বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দলকে সংগঠিত করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং সংগঠনকে সচল রাখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর তিনি সমাজকল্যাণ ও মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয় তরিকুল ইসলামকে। পরে একই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হন তিনি। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন; পরবর্তী সময়ে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০০১ সালের নির্বাচনে যশোর-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপি সরকারের মন্ত্রিপরিষদে প্রথমে খাদ্যমন্ত্রী, পরে তথ্যমন্ত্রী এবং সর্বশেষ বন ও পরিবেশমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয় পর্যায়ের এসব দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজ জেলা যশোরের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণের বিষয়টিও তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব পেয়েছে।
তরিকুল ইসলাম কেবল সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন না; যশোরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও তার বিচরণ ছিল বিস্তৃত। যশোর সরকারি সিটি কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, যশোর ইনস্টিটিউটের সহকারী সম্পাদক, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাগরণী চক্রের সভাপতি, কিংশুক সংগীত শিক্ষা কেন্দ্রের প্রধান উপদেষ্টা এবং যশোর ক্লাবের নির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যাওয়ার ক্ষমতা। নেতাকর্মীদের জন্য তার দরজা ছিল উন্মুক্ত। আজকের দিনের অনেক রাজনৈতিক নেতার মতো নির্দিষ্ট কোনো বলয় বা ‘সার্কেল’ তৈরি করে চলাফেরা করতেন না তিনি। যেখানে মানুষের উপস্থিতি দেখতেন, সেখানেই বসে আড্ডা জমিয়ে তুলতেন। মানুষের কথা শুনতেন, তাদের সমস্যা জানার চেষ্টা করতেন।
গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ছুটে যাওয়ার অভ্যাস ছিল তার। নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেওয়া, সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করা এবং স্থানীয় সমস্যা সম্পর্কে অবগত হওয়া ছিল তার নিয়মিত কাজের অংশ। বড় মাপের জাতীয় নেতা হয়েও স্থানীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন কিংবা অধিকার আদায়ের কর্মসূচিতে তাকে রাজপথে দেখা যেত। নেতৃত্বের অবস্থানে থেকেও আন্দোলনের মাঠ থেকে নিজেকে কখনো বিচ্ছিন্ন করেননি তিনি।
যশোরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তরিকুল ইসলামের নাম বিশেষভাবে আলোচিত হয়। তার সময়ে যশোরে যে উন্নয়ন হয়েছে, তার ধারে-কাছে স্থানীয় অন্য কোনো নেতা যেতে পারেননি। সে কারণে তাকে ‘যশোর উন্নয়নের কারিগর’ নামে অভিহিত করা হয়। যশোর সদর হাসপাতালকে আধুনিক মানের জেনারেল হাসপাতালে রূপান্তর এবং পরবর্তী সময়ে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা, সেখানে দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে প্রথম করোনারি কেয়ার ইউনিট স্থাপন, যশোর মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলাসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তার অবদান অনস্বীকার্য। এসব উদ্যোগ যশোরকে স্বাস্থ্য ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার পথে এগিয়ে দিয়েছে। তরিকুল ইসলামের উন্নয়ন ভাবনার কেন্দ্রে ছিল যশোরকে এগিয়ে নেওয়া। জাতীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করলেও নিজ জেলার উন্নয়ন নিয়ে তিনি সব সময় সচেতন ছিলেন। স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখার কারণে তার সঙ্গে যশোরের মানুষের সম্পর্ক ছিল অন্যরকম।
তরিকুল ইসলামের মৃত্যুর পর তার রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তরাধিকার বহন করছেন পরিবারের সদস্যরা। বিশেষ করে ছোট ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে রাজনীতিতে সক্রিয় হন আগেই। বর্তমানে তিনি যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ছাড়াও দায়িত্ব পালন করছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে। বাবার মতোই যশোরের উন্নয়ন ও মানুষের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে কাজ শুরু করেছেন অমিত। প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প কয়েক মাসের মধ্যেই যশোরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন উদ্যোগের সঙ্গে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সম্পৃক্ততা দেখা গেছে। তার এই কর্মকাণ্ডকে তরিকুল ইসলামের উন্নয়ন-ভাবনার ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখছেন অনেকে।
তরিকুল ইসলাম যশোরের রাজনৈতিক ইতিহাস, উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা, সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং মানুষের স্মৃতিতে যে পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন, তা যশোরের ইতিহাসেরই অংশ। ক্ষমতা ও পদ-পদবির বাইরে মানুষের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক, প্রতিকূলতার মুখেও রাজনৈতিক অবস্থানে অবিচল থাকা এবং নিজ জনপদের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার স্মৃতি তাকে বারবার স্মরণ করিয়ে দেবে। তাই তরিকুল ইসলাম কেবল একজন রাজনীতিক নন; যশোরের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের নাম।
লেখক: বার্তাপ্রধান, সুবর্ণভূমি
৩ নভেম্বর ২০২৬, যশোর