যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

সম্পাদকীয়

ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প: শুভ উদ্যোগ যেন বুমেরাং না হয়

প্রকাশ : সোমবার, ৮ জুন,২০২৬, ০৯:০০ এ এম
ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প: শুভ উদ্যোগ যেন বুমেরাং না হয়

প্রধানমন্ত্রীর ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের তালিকায় শীর্ষে থাকা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্প সরকার গঠনের পরপরই দেশের বাছাই করা এলাকায় পাইলটিং করা হয়। এখন চলছে এর দ্বিতীয় পর্যায়ের পাইলটিং। দরিদ্র অসহায় নারীদের জন্য এই প্রকল্প নিঃসন্দেহে একটি দূরদর্শী ও কল্যাণমুখী উদ্যোগ। বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতেও এটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। এ ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কোনো দলেই দ্বিমত নেই। কিন্তু পাইলটিং করতে গিয়ে যে অসঙ্গতিগুলো ধরা পড়ছে, তা এখনই শনাক্ত করে দরকারি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে সম্প্রতি দ্বিতীয় দফার পাইলটিংয়ে অসচ্ছল নারীদের হাতে কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। এই অনুষ্ঠান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রায় দুই হাজার নারীর মাঝে ওই অনুষ্ঠানে কার্ড বিতরণ করেন।

এই ওয়ার্ডে যারা সরকারি এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ছেন, গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে দেখা গেছে, তাদের অন্তত ৬২ জন সচ্ছল নারী। অর্থাৎ সম্ভাব্য সুবিধাভোগী বাছাইয়ে চরম অবহেলা সামনে এসেছে।

রোববার দৈনিক সুবর্ণভূমিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প হওয়ায় এখানে যাতে কোনো বিতর্ক সৃষ্টি না হয়, তার জন্য জেলা প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে ছিল। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে কাজে লাগানো হয়। সেখানেই ধরা পড়ে ঘাপলা। দেখা যায়, সরাসরি যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্বে থাকা সমাজসেবা অধিদপ্তর কাজটি সুচারুরূপে করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। জেলা প্রশাসক গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাদের অবহিত করলেও অধিদপ্তর তালিকা সংশোধনে ব্যর্থ হয়। ফলে উদ্বোধনের পরপরই উপকারভোগীদের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে টাকা চলে যায়।

পাইলটিং পর্যায়ে এই অবস্থা হলে যখন দেশজুড়ে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে, তখন কী অবস্থা দাঁড়াবে, তা ভাবলে গা শিউরে ওঠে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের সক্ষমতা আমরা জানি। সরকারি এই দপ্তরটি যদি মাঠপর্যায়ের সমাজকর্মীদের দিয়ে জরিপ চালায়, তবে বিপুল ত্রুটি-বিচ্যুতি অনিবার্য। আর এই সুযোগ হাতছাড়া করবে না বিরোধীদল। তারা সরকারের কল্যাণমূলক উদ্যোগকেই আঘাত হানার অস্ত্র বানিয়ে ফেলবে।

তাই সরকারকে এখনই সতর্ক হতে হবে। যাচাই-বাছাইয়ে বিকল্প ও নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি খুঁজতে হবে। স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ডিজিটাল ডাটাবেজ, স্বতন্ত্র মনিটরিং সেল এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা গেলে আগামী দিনের তালিকা অনেকটাই স্বচ্ছ হবে বলে আমাদের মত। একইসাথে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার ও গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়াতে হবে। অন্যথায় প্রধানমন্ত্রীর শুভ উদ্যোগ এক সময় বুমেরাং হয়ে সরকারের জন্যই বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সেকারণে সময় থাকতে সংশোধনের পথে না হাঁটলে পরে আফসোস করা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)