মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরে মেয়েকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় বাবাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার বিকেলে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. গোলাম কবির এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত বজলুর রহমান মেহেরপুর সদর উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের আওলাদ হোসেনের ছেলে। নিহত ববিতা খাতুন তার মেজ মেয়ে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২৫ মার্চ রাতে মেহেরপুরের ভৈরব নদ থেকে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দী অবস্থায় ববিতা খাতুনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় সদর থানার উপ-পরিদর্শক মকবুল হোসেন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
মরদেহ শনাক্ত হওয়ার পর তদন্তে ববিতার বাবা বজলুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়। পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়।
জবানবন্দীতে বজলুর রহমান দাবি করেন, মেয়ের বেপরোয়া চলাফেরার কারণে তাকে হত্যা করে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ভৈরব নদে ফেলে দেন তিনি।
হত্যার পাঁচ দিন পর নদ থেকে ববিতার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ২১ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।
সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে বজলুর রহমানকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার রায় দেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর সাঈদুর রাজ্জাক এবং আসামিপক্ষে আইনজীবী খন্দকার একরামুল হক হীরা মামলা পরিচালনা করেন।