খুলনা অফিস
খুলনা মহানগরীর বাবুখান রোডের ‘সন্ধানী ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পৌনে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ৯টার পর মোটরসাইকেলে এসে ১০-১২ জন সন্ত্রাসী সন্ধানী ক্লিনিকে প্রবেশ করে গুলিবর্ষণ শুরু করে। এরপর তারা অধ্যাপক ডা. মো. কুতুব উদ্দিন ও ডা. শেখ মোজাম হোসেনের চেম্বার এবং রিসিপশন ও ক্যাশ কাউন্টারে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় দুর্বৃত্তরা ক্লিনিকের মেডিকেল রিপোর্ট প্রদানকারী ইকবাল হোসেনের ফোন ছিনিয়ে নেয়। হামলায় ক্লিনিকের রিসিপশনিস্ট বিশ্বজিৎ সামান্য আহত হন।
ক্লিনিকের সুপারভাইজার কল্যাণী জানান, এদিন তারা স্বাভাবিক কাজ করছিলেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে মুখোশ পরা কয়েক ব্যক্তি ভাঙচুর করতে করতে ক্যাশ কাউন্টারের সামনে চলে আসে। প্রাণভয়ে তারা বাইরে চলে যান। দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার পর তারা আবার ভেতরে আসেন।
তবে হামলার কোনো কারণ তিনি জানাতে পারেননি। ঘটনার পর ক্লিনিকের ভেতরে মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি এবং উপস্থিত কেউ হামলার কারণ নিয়ে মুখ খোলেননি।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্বৃত্তরা ক্লিনিক লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সংবাদ পেয়ে পুলিশ ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না এবং তাদের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা মিলছে না। ঘটনার তদন্ত চলছে। এর সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।