যশোর, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

মণিরামপুরে বৃদ্ধ স্বামীকে পিটিয়ে হত্যা! স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই,২০২৬, ০৪:০২ পিএম
আপডেট : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই,২০২৬, ০৪:১০ পিএম
মণিরামপুরে বৃদ্ধ স্বামীকে পিটিয়ে হত্যা! স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে

যশোরের মণিরামপুরে আরিফুর রহমান (৮০) নামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ছোট স্ত্রীর বিরুদ্ধে। পারিবারিক কলহের জেরে সোমবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে স্ত্রী শেফালি বেগম তাকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

খবর পেয়ে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মণিরামপুর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের কপালে কাটা ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ নিহতের ছোট স্ত্রী শেফালি বেগমকে (৫৫) হেফাজতে নিয়েছে।

আরিফুর রহমান উপজেলার হরিহরনগর ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামের মৃত লাল চাঁদ গাজীর ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি পাঠাগারের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। ডান পা পঙ্গু থাকায় তিনি স্বাভাবিক হাঁটাচলা করতে পারতেন না।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুই মেয়ে রেখে প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর প্রায় ৩০-৪০ বছর আগে শেফালি বেগমকে বিয়ে করেছিলেন আরিফুর রহমান। এই সংসারে তাদের দুই ছেলে রয়েছে, যারা বর্তমানে বিদেশে কর্মরত।

নিহতের বড় মেয়ের জামাতা আইয়ুব আলী বলেন, ‘সোমবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে শ্বশুরের সাথে আমার ফোনে কথা হয়। এরপর রাত ১১টার দিকে শুনি তিনি মারা গেছেন। রাতেই এসে দেখি শ্বশুরের লাশ বারান্দায় খাটের ওপর পড়ে আছে।’

তিনি আরও জানান, শ্বশুরের ঘরের সামনে পাকা রাস্তার অপর পাশের চা-দোকানের লোকজন বলাবলি করছিল যে, রাতে শ্বশুর ‘আমারে বাঁচা’ বলে চিৎকার করেছিলেন। কিন্তু বাড়ির গেটে তালা দেওয়া থাকায় তারা ভেতরে ঢুকতে পারেননি। আইয়ুব আলীর দাবি, সুস্থ মানুষ এত দ্রুত মারা যেতে পারেন না, ময়নাতদন্তে হত্যা প্রমাণিত হলে তারা খুনির উপযুক্ত শাস্তি চান।

স্থানীয় মদনপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুনসুর আলী জানান, আরিফুরের এক ছেলের বউ বাড়িতে থেকে শ্বশুরের দেখাশোনা করতেন। শাশুড়ির ওপর রাগ করে সোমবার দুপুরে তিনি বাবার বাড়ি চলে যান। আরিফুর তখন ছেলের বউকে বাড়িতে থেকে যাওয়ার অনুরোধ করেন। এ নিয়ে স্ত্রীর সাথে বাকবিতণ্ডা হলে একপর্যায়ে শেফালি বেগম তাকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার ৩-৪ ঘণ্টা পর শেফালি বেগম নিহতের এক চাচাতো ভাইকে বিষয়টি জানালে এলাকায় জানাজানি হয়। মুনসুর আলী আরও জানান, আরিফুর পঙ্গু হওয়ায় স্ত্রী প্রায়ই তাকে নির্যাতন করতেন।

তবে পুলিশ এ ঘটনাকে এখনই নিশ্চিত হত্যাকাণ্ড বলছে না।

মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, মৃত ব্যক্তির কপালে কাটা দাগ রয়েছে। তবে এই আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে কিনা তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া বলা যাচ্ছে না। লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)