স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরের চৌগাছা উপজেলার বেড় গোবিন্দপুর বাওড়ের নৈশপ্রহরী আতিয়ার রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় লাশ উদ্ধারের মূল তথ্যদাতা ওসমানকে পুলিশি হেফাজত থেকে রহস্যজনকভাবে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) অথবা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর কাছে হস্তান্তরের জোর দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিহত আতিয়ার রহমানের ভাই মো. রাশেদ আলী এই অভিযোগ ও দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে রাশেদ আলী জানান, গত ২০ জুন রাতে বাওড়ে দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আতিয়ার রহমান নিখোঁজ হন। পরদিন সকালে তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং একপর্যায়ে চৌগাছা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
রাশেদ আলীর দাবি, নিখোঁজের পর মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ প্রথমে ওসমান নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে। পরবর্তীতে ওসমানের দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী বেড় গোবিন্দপুর বাওড়ের ‘ডাইনের বিল ক্যানেল’ এর কচুরিপানার নিচ থেকে আতিয়ার রহমানের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওসমানের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ পরে সুজা ও কবির নামের আরও দুইজনকে গ্রেফতার করলেও রহস্যজনকভাবে মূল তথ্যদাতা ওসমানকে ছেড়ে দেয়। এমনকি হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক এজাহারেও তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে পরিবার।
এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাশেদ আলী বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় ৯ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র তিনজন গ্রেফতার হলেও বাকি আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পলাতক আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নিহতের পরিবারকে নিয়মিত ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এতে পুরো পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির লক্ষ্যে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে মামলাটি অবিলম্বে ডিবি বা পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর, ওসমানের ভূমিকা পুনরায় খতিয়ে দেখা এবং এজাহারনামীয় সকল পলাতক আসামিকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে। একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমেই কেবল ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।