কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের কেশবপুর পৌরসভার শতাধিক জলাবদ্ধ পরিবারের সহযোগিতায় এগিয়ে এলেন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর, প্রেসক্লাব কেশবপুরের সভাপতি ওয়াজেদ খান ডবলু ও প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক মাহাবুবুর রশীদ সবুজ।
তারা নিজেদের উদ্যোগে মাটিকাটা শ্রমিক নিয়ে দুই স্থান থেকে বাঁধ কেটে দিয়ে এলাকার জলাবদ্ধ পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন। এতে এলাকার জলাবদ্ধ পরিবারের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে টানা বৃষ্টিতে মধ্যকুল সাহাপাড়া, খানপাড়া ও বাস, ট্রাক টার্মিনালসহ চারটি মহল্লার প্রায় একশ’ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। গভীর রাতে অধিকাংশ পরিবারের ঘরের মধ্যে পানি প্রবেশ করায় তাদের মূল্যবান জিনিসপত্র ভিজে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়। এছাড়া, টানা বৃষ্টিতে হরিহর নদ সংলগ্ন কয়েকটি বাড়িতে ফাঁটল দেখা দেয়। এখবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।
সম্প্রতি কেশবপুরে হরিহর নদী খনন করে তার মাটি নদী পাড়ে ফেলে রাখার কারণে পৌর সভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পানি প্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে যায়। বৃষ্টির পানি নদীতে নিষ্কাশিত হতে না পেরে এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে কেশবপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যকুল এলাকার সাহাপাড়া, বিশ্বাসপাড়া, বাস ও ট্রাক টার্মিনাল, খানপাড়া ও নাথপাড়া এলাকার প্রায় একশ‘ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে এবং তাদের বসতঘরের মধ্যে এক থেকে দেড় ফুট পানি উঠে যায়। ধীরে ধীরে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এসব এলাকার বাসিন্দারা। ক্ষতিগ্রস্তরা সাবেক কাউন্সিলর ওয়াজেদ খান ডবলুর কাছে পানি নিষ্কাশনে সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি এলাকার জলাবদ্ধতার বিষয়টি শুক্রবারই উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুনকে অবহিত করেন।
এরপর সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর শনিবার (১১ জুলাই) কেশবপুর প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক মাহাবুবুর রশীদ সবুজকে সাথে নিয়ে শ্রমিক নিয়োগ করে মধ্যকুল সাহাপাড়াসহ দুইটি স্থানে মাটি কেটে পানি সরানোর ব্যবস্থা করেন। এতে প্রায় এক ফুট পানি হরিহর নদে নেমে গেছে। এতে স্বস্তি ফিরছে এলাকায়।
মধ্যকুল এলাকার ডা. হাবিবুর রহমান ও কালিদাস সাহা এই ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করে উদ্যোক্তা দুইজনকে ধন্যবাদ জানান।